‘মাদক’ সেবন সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী

LaksamDotKom
By LaksamDotKom অক্টোবর ২১, ২০১৩ ১৬:২২

কামাল আহমাদ বিন নুরু মিয়া: ‘মাদক’ নেশা এমন এক নেশা যা মানুষকে অতি দ্রুত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। শুরুতে যদিও উপলদ্ধি করা যায় না কিন্তু এক সময় দেখা যায় শরীরের মধ্যে স্তরে স্তরে এমন এক রোগের সৃষ্টি হয়েছে যার জন্য দায়ী এই মাদক নেশা। যে ব্যক্তি ‘মাদক’ দ্রব্য সেবন করে সেই ব্যক্তি যে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঢেলে দিচ্ছে সেই কিন্তু সুস্থ থাকতে বুঝে না। ‘মাদক’ সেবন আর আত্মঘাতী একই কথা। ‘মাদক’ মূলত নির্দিষ্ট কোন কিছুর নাম নয়; যে বস্তু খেলে বা পান করলে মানুষের মস্তিস্ক পূর্বের মত স্বাভাবিক থাকে না, চেতনা শক্তি হারিয়ে যায়, বিবেক-বুদ্ধি নষ্ট হয় এমন সব বস্তুকেই ‘মাদক’ বলে। রাসুল (ছা:) বলেছেন, “প্রত্যেক ঐ বস্তু যা বিবেকের ক্ষতি করে সেসবই মাদক। আর সব ধরনের মাদকই হারাম”(ইবনু মাজাহ হা/৩৩৯০)। অন্যত্র রাসুল (ছা:) বলেছেন, “যে বস্তু বেশী ভক্ষন করলে বিবেকের ক্ষতি হয় তার কমও হারাম”(ইবনু মাজাহ হা/৩৩৯৩)। তিনি আরো বলেন, “আমার কিছু উম্মত মদ পান করবে তার নাম রাখবে ভিন্ন” অর্থ্যাৎ তাকে ‘মদ’ না বলে অন্য নাম বলবে (ইবনু মাজাহ হা/৪০২০)। সুতরাং হাদীস থেকে স্পষ্ট- বিড়ি, সিগারেট, জর্দ্দা, গুল, ফেন্সিডাইল, ইয়াবা, হিরোইন, গাঁজা ইত্যাদি সবই নেশাদ্রব্য, সবই ‘মাদক’। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় এই মাদকের সাথে জড়িত অধিকাংশ মানুষ। শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত প্রায় লোকেই অন্য কোন নেশায় জড়িত না হলেও সিগারেটের সাথে জড়িত। শিক্ষিত লোকেরাও বর্তমানে ধুমপান করে। তারা কিন্তু জানে ‘ধুমপানে মৃত্যু ঘটায়’ তবু তারা ধুমপান করে। যে চার টাকা দিয়ে সিগারেট ক্রয় করে সেই চার টাকা ভিক্ষুককে না দিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, তারা নাকি শিক্ষিত। একজন কৃষক লেখা-পড়া জানেনা বিদায় হয়তো ধুমপান করে, কারন সে ব্যক্তি ‘ধুমপানে বিষপান’ লেখাটি পড়তে জানে না। কিন্তু শিক্ষিত মানুষ ধুমপান করলে তাকে কি এক্ষেত্রে শিক্ষিত বলা যাবে? বর্তমানে একশ্রেনীর আ’লেম নিজেরা পানের সাথে জর্দ্দা খায় বিধায় তারা জর্দ্দাকে মাকরূহ বলে ফতোয়া দেয় অথচ জর্দ্দাও যে নেশাদার দ্রব্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৭ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকার ধুমপান করা হয়। যে টাকা দিয়ে ঐ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৫৩ লাখ শিশুকে দৈনিক একটি করে ডিম ও এক গ্লাস দুধ খেতে দেয়া সম্ভব। অথচ এ টাকা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে দরিদ্র দেশের মানুষ। আরেকটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে সিগারেটের তামাক শুকাতে নাকি বছরে ক্ষতি হয় ১৭ হাজার কোটি টাকা। আবার প্যাকেটের গায়ে লেখা হচ্ছে ‘ধুমপানে মৃত্যু ঘটায়’ এ কেমন শিক্ষা? আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে ‘তামাক দিবস’ পালন করি। এই ‘তামাক দিবস’ পালন করে কে বেশী উপকৃত হচ্ছে? ‘মাদক’ সেবনকারীরা নাকি সাধারণ মানুষ? ঢাকা শহরে বাসে উঠলে দেখা যায়- বিভিন্ন স্টীকারে লেখা ‘মাদক’কে না বলুন। বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিরোধী সভাও করা হয়। কিন্তু দিন বদলের সাথে সাথে মাদকাসক্তের সংখ্যা হচ্ছে দ্বিগুন থেকে বহুগুন। নয়াদিগন্ত পত্রিকা রিপোর্ট করেছে- ‘প্রতিমাসে বাংলাদেশে ইয়াবা ট্যাবলেট আসছে শত কোটি টাকার’। কারা সেবন করছে এসব মাদক? নিশ্চয় বাংলার মানুষ। কে এই মরন নেশার আমদানী কারক? নিশ্চয় বাংলার মানুষ। সুতরাং আমাদের সন্তান নষ্ট হবে না তো কাদের সন্তান নষ্ট হবে? রিপোর্টে আরো বলা হয়- ‘এক সপ্তাহে র‌্যাব সদস্য ৩৬ হাজার ৫০০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করেছে”(২৭/৮/১৩)। জানি না কত ইয়াবা ট্যাবলেট বাংলাদেশে আছে।

আমরা কি আমাদের দেশটাকে মাদকের দিকে ঢেলে দিচ্ছি? নষ্ট করে দিচ্ছি কি আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত? কেন আজ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে এই মরন নেশা? তারাই কি এর জন্য দায়ী? মানবজীবনের একটি সময় রয়েছে যাকে বলে বয়:সন্ধি কাল। এই সময় ছেলে-মেয়েরা যখন নবযৌবনে পা রাখে তখন তারা নতুন এক জগতে প্রবেশ করে। মন সর্বদা নতুন কিছু পেতে চায়। শরীরের গঠন আকৃতির পরিবর্তন হয়। কন্ঠসুরের পরিবর্তন ঘটে। শরীরে দেখা দেয় নতুন এক উজ্জ্বলতা। ছেলে-মেয়ে তখন একে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তারা যেন তখন অন্য জগতের মানুষ। এই সময় রাষ্ট, সমাজ ও প্রত্যেক পিতা-মাতার উচিৎ তাদের আদরের সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। অন্য শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার প্রতি গুরত্বারোপ করা। কিন্তু দঃখের বিষয়- আমরা এই সন্তানদের বয়:সন্ধি কালে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি মোবাইল ফোন, যা সেক্সুয়াল ফ্লিম দেখার জন্য, সেক্সুয়াল গান শুনার জন্য দ্রুত সহায়ক। তারা যখন বাসার মধ্যে সিডি ও ডিস এন্টিনারের মাধ্যমে নাটক-সিনেমা দেখছে, পাশ্চাত্যের অপসাংস্কৃতি দেখছে, হিন্দি গানের নগ্ন দৃশ্য দেখছে, মনের ভিতর তখন চটপট করছে কিছু পাওয়ার। যৌবনের উষ্ণতা তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে ভিন্নতার দিকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে- নারীর শরীরের তাপমাত্রা পুরুষের চেয়ে দ্বিগুন। বয়:সন্ধি কালে একজন ছেলে একজন মেয়ের পাশে বসলে ঊভয়ের মনেই সৃষ্টি হয় যৌন তৃষ্ণা, যা বিচলিত হবার কিছু নয়। তখন অধিকাংশ ছেলে-মেয়ের কাছে লেখা-পড়া ভাল লাগে না। রাস্তায় বের হলে অর্ধনগ্ন পোশাকে নারীকে দেখা, স্কুল-কলেজে পাশাপাশি বসা, বাসায় আসলে টিভির পর্দায় নগ্ন নায়িকার দৃশ্য দেখা, মোবাইল ফোনে সেক্সুয়াল গান ও ছবি দেখা তাদেরকে উম্মাদ করে তুলে। তখন তারা মাদক নেশা ছাড়া আর কিছু বুঝে না। মাদকই হয়ে যায় তাদের কাছে আপন। তখন কাউকে হত্যা করা তাদের কাছে সাধারণ ব্যাপার। এর জন্য দায়ী কে? কাকে আমরা দোষারোপ করবো? আমরা যেন স্বাধীন দেশে থেকেও স্বাধীনতাকে খুঁজছি। একজন নারীকে যদি ৬ দিন বেঁধে রেখে ধর্ষন করা হয়, একজন নারী যদি পবিত্র কোরাআন বুকে নিয়ে হাতজোড় করার পরেও পালাক্রমে ধর্ষিত হয়, একজন মেয়ে যদি মাদকাসক্ত হয়ে তার পুলিশ পিতা-মাতাকে হত্যা করে, আইনের পুলিশ যদি ফেন্সিডিল সহ ধরা পড়ে, শিক্ষক যদি ছাত্রীকে ধর্ষন করে, মা যদি পরকীয়া প্রেমের টানে নিজ ছেলেকে হত্যা করে, লাশ কবর দিতে যদি ঘুষ লাগে, কবরের কঙ্কাল যদি চুরি হয়ে যায় তাহলে আমরা কি স্বাধীনতাকে আবারো খুঁজছি?। এর জন্য দায়ী কে? সমাজ ব্যবস্থা নাকি শিক্ষা ব্যবস্থা? রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আইনের দূর্বলতা নাকি পিতা-মাতার কাঠিন্নতার অভাব? অপসংস্কৃতি নাকি মাদকের সয়লাব? নারীর পোশাকাবৃতি নাকি অশ্লীল সিনেমা ও গান-বাজনা? কাকে আমরা দায়ী করবো? ‘মাদক’ যে হারাম বা মাদক ভক্ষনে যে নেশা হয় একথা পৃথিবীর প্রায় মানুষেই জানে তবু মানুষ মাদককের সাথে সস্পৃক্ত। এই মাদককে মানুষ কখনো কখনো পিতা-মাতা, সন্তানাদির চেয়েও বেশী আপন মনে করে। মাদক সেবনের পর সেই ভুলে যায় কে তার পিতা, কে তার মাতা। সেই তখন নেশাগ্রস্ত হয়ে কাউকে খুন করতেও চিন্তা করত না। যার স্পষ্ট প্রমান পিতা-মাতাকে হত্যাকারীনি ঢাকা চামেলীবাগের ‘ঐশী রহমান’। এ খুনের জন্য দায়ী কে? কেন সে খুন করলো? সে কি সুস্থ মস্তিস্কে খুন করেছে? নাকি নেশাগ্রস্ত মস্তিস্কে খুন করেছে? প্রায় দিন পত্রিকার পাতায় ছবিসহ লেখা উঠছে অমুক জায়গায় এত বতল ফেন্সিডিল ধরা পড়েছে, অমুক জায়গায় এত পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট ধরা পড়েছে। বড় আক্ষেপের বিষয়- হাজার হাজার পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট ধরা পড়ে, হাজার হাজার ফেন্সিডিল ধরা পড়ে কিন্তু তাদের সাথের বড় বড় ‘আমলাদেরকে পত্রিকার পাতায় তেমন দেখা যায় না। তারা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। দোষ পড়ে যে ‘মাদক’ ভক্ষণ করে তার উপর। বিষয়টা উল্টা হয়ে গেল কি? সকাল বেলায় যে ব্যক্তি পরাটা দিয়ে নাস্তা করতে অভ্যস্ত সে ব্যক্তি বাংলাদেশের যে প্রান্তেই থাকুক সকাল বেলা দোকানে পরাটা বাজা দেখলে তার লোভ লাগাটা স্বাভাবিক। তদ্রুপ যে ব্যক্তি মাদক নেশায় অভ্যস্ত তার সামনে যদি সুন্দর করে মাদকের দোকান সাজিয়ে দরজা খুলে রাখা হয় আর বলা হয় তুমি বাবা মদ খেওনা, মদ হারাম, মদ পান করলে নেশাগ্রস্ত হয়ে যাবে তাহলে ব্যাপারটা কেমন দেখায়? আমাদের দেশের অবস্থা ঠিক তেমনই। মাঝে মধ্যে মাদকদ্রব্যসহ যাদেরকে আটক করা হয় তারা হয় চেংরা পোলাপাইন, না হয় হত দারিদ্র কোন বস্তির মেয়ে। কিন্তু কারা তাদেরকে এই পেশায় নিয়ে এসেছে? কারা তাদেরকে এই মাদক পাচারে সহযোগিতা করছে? এ সমস্ত হতদরিদ্র চেংরা পোলাপাইন বা বস্তির মেয়েরা তো দারিদ্রাতার চাপে নুন আনতে পান্তা পুরায়। অথচ তাদের সাথে ধরা পড়ে হাজার হাজার টাকার ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট। তারা মাদক পাচার করতে এত টাকা পায় কোথায়? কে তাদের সহযোগিতা করে? এ প্রশ্নের জবাব একেবারে শূন্য…..।

ইসলামের দৃষ্টিতে মাদক: আনাস (রা:) বলেন, রাসুল (ছা:) দশ ব্যক্তির প্রতি অভিশাপ করেছেন, * যে ব্যক্তি মদের নির্যাস বাহির করে তার প্রতি * মাদক প্রস্তুতকারকের প্রতি * মাদক সেবনকারীর প্রতি * যে ব্যক্তি অন্যকে মদ পান করায় তার প্রতি * যে ব্যক্তি মাদক আমদানী করে তার প্রতি * যার জন্য আমদানী করা হয় তার প্রতি * যে ব্যক্তি মাদক বিক্রি করে তার প্রতি * যে ব্যক্তি মাদক ক্রয করে তার প্রতি * যে ব্যক্তি মাদক সরবরাহ করে তার প্রতি * যে ব্যক্তি মাদকের লভ্যাংশ ভোগ করে কার প্রতি”(তিরমিযি, মিশকাত হা/২৭৭৬ সনদ ছহীহ)। অন্যত্র রাসুল (ছা:) বলেছেন, “সর্বদা নেশাদার দ্রব্য সেবন করা মূর্তিপূজার ন্যায় অপরাধ”(ইবনু মাজাহ হা/৩৩৭৫)। “সর্বদা নেশাদার দ্রব্য সেবনকারী জান্নাতে যাবে না”(ইবনু মাজাহ হা/৩৩৭৬)। “যে ব্যক্তি নেশাদার দ্রব্য সেবন করে ৪০ দিন তার ছালাত কবুল হবে না, যদি এ অবস্থায় মারা যায় তাহলে সে জাহান্নামে যাবে”(ইবনু মাজাহ হা/২৭৩৮)। “অন্যায় ও অশ্লীল কর্মের মূল হচ্ছে মাদক সেবন করা”(নাসাঈ, ইবনু মাজাহ হা/৩৩৭১)।

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,“হে বিশ্বাসীগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, পূজার আস্তানা ও ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ ঘৃনিত শয়তানের কাজ, অতএব তোমরা তা বর্জন কর। যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মাঝে শত্র“তা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও ছালাত থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে, কাজেই তোমরা কি (এ কাজ থেকে) বিরত থাকবে? তোমরা (সর্ববিষয়ে) আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুল (ছা:) এর আনুগত্য কর আর (মদ ও জুয়ার ধ্বংসকারীতা থেকে) সতর্ক থাক, আর যদি তোমরা (রাসুলের আনুগত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে জেনে রেখো, আমার রাসুলের দায়িত্ব হচ্ছে সুস্পষ্টভাবে (আমার আদেশ গুলো) পৌঁছে দেয়া”(সুরা মায়িদা: ৯০-৯২)। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “মাদক সেবন করা ঘৃনিত শয়তানের কাজ”। “শয়তান চায় মাদকের মাধ্যমে মানুষের মাঝে শত্র“তা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে”। “শয়তান চায় মাদকের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও ছালাত থেকে দুরে রাখতে”। সুতরাং বুঝতে আর বাকি নেই, যারা মাদক সেবন করে তারা মুলত: শয়তানেরই অনুসরণ করে। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনে বহু আয়াতে বলেছেন, “তোমরা শয়তানের অনুসরণ করিও না, নিশ্চয়ই শযতান তোমাদের প্রকাশ্য শত্র“”(সুরা বাকারা: ২০৮)। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্র“”। অথচ আজ পর্যন্ত কোন মানুষ শয়তানকে স্ব-চোখে দেখেছে এমন কথা বলে নাই, বলে নাই শয়তানের রূপ-লাবণ্যের কথা। তাহলে ‘প্রকাশ্য শত্র“’ কথাটি কেমন হল? ভুল বুঝার কারন নেই, নিশ্চয়ই আল্লাহর কথা সত্য। আল্লাহ তা’য়ালা সুরা আন-নাছ এর মধ্যে বলেছেন, শয়তান দু’ ধরনের। একটি হল ‘জ্বিন শয়তান’ অপরটি হলো ‘মানুষ শয়তান’। ‘জ্বিন শয়তান’ মানুষের মনে কুমন্ত্রনা দেয় আর ‘মানুষ শয়তান’ তা বাস্তবায়ন করে। ‘জ্বিন শয়তান’ মানুষ হত্যা করতে, মাদক সেবন করতে বা মাদক আমদানী করতে কেউ দেখে না, কেননা সে অপ্রকাশ্য শয়তান। আল্লাহ তা’য়ালা জ্বিন শয়তানের পাশাপাশি মানুষ শয়তান থেকেও দুরে থাকতে বলেছেন। মানুষ শয়তানই মানুষের জন্য প্রকাশ্য শত্র“। যারা মানুষকে হত্যা করে, যারা এই ভয়ংকর মাদক দ্রব্যকে আশ্রয় দেয়, যারা এই মাদক নেশাকে আমদানী করে অত:পর বাংলার নব যুবক-যুবতী, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে মাদক তুলে দিয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যতকে নষ্ট করে, ধ্বংস করে তাদের জীবন তারা কখনো সুস্থ মনের মানুষ নয়। তারা মানবরূপী শয়তান। তারাই মানুষের প্রকাশ্য শুত্র“। তারা দেশ ও জাতির কলংক। আল্লাহ যেন এ সমস্ত মানবরূপী শয়তান থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে এবং সার্বিক জীবনে আমাদেরকে রাসুল (ছা:) এর আদর্শে আদর্শিত হওয়ার তাওফীক দান করে এ কামনায় শেষ করলাম, আমিন!।

(682)

LaksamDotKom
By LaksamDotKom অক্টোবর ২১, ২০১৩ ১৬:২২
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Leave a Reply