পুলিশের রিমান্ড ও একটু সুপারিশ

LaksamDotKom
By LaksamDotKom অক্টোবর ২১, ২০১৩ ১৬:২০

মোঃ সাইফুল আনোয়ার: সুপ্রিয় পাঠক! মনে করুন এটা একটি গল্প, যার শুরু এভাবে, এখনো ফজরের আযান দেয়া হয়নি মসজিদে। আমি ঘুমে কাতর। কিন্তু মোবাইলটার রিং পাগলা ঘোড়ার গলায় বাঁধা ঘন্টার মত বেজে চলছে। অগত্যা ঘুম থেকে উঠে মোবাইলের কল রিসিভ করলাম। হ্যালো-আস্সালামু আলাইকুম। কে বলছেন? ভাইজান বড় বিপদে আছি, জীবন মরণের প্রশ্ন। এক্ষুনি আপনার বাসায় আসছি। পাঁচ হাজার টাকা রেডি রাখেন।

এই বলেই লোকটা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো। কেন কি দরকার? এত রাতে টাকা। আমি কিছুই বুঝলাম না। মানুষের সময় কখন যে কি রকম যায় আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আগাম বলতে পারে না। এর মাত্র মিনিট বিশেক পরেই লোকটার আগমন আমার ঘরের দরজায়। তার হন্তদন্ত ভাব দেখে আমি তাকে পাঁচ হাজার টাকা তাড়াতাড়ি হাতে গুঁজে দিয়ে বললাম ভাইজান হলোটা কি? কি সমস্যা? লোকটা যেনো দৌঁড় দিবে এমনভাব করে দ্রুতগতিতে চলে যাচ্ছে। যেতে যেতে বললো, ভাইয়া বেঁচে থাকলে পরে দেখা হবে। আমি অবাক হয়ে লোকটার চলে যাওয়ার পানে চেয়ে রইলাম। বিশ্বাসী লোক, টাকা ফেরৎ পাবো। তাই চিন্তা না করে দরজা বন্ধ করে রুমে ফেরত এলাম। সময় দ্রুত চলে গেলো। আমি নানা ব্যস্ততায় আর লোকটার খোঁজ খবর নিতে পারলাম না। মাস ছয়েক পরে একদিন লাকসামের একটি ক্লিনিকের করিডোরে লোকটার সাথে দেখা। চুল উসকো খুশকো। চোখ কঠোরাগত, গায়ের জামা বোধ হয় দিন পনেরো সাবানের দেখা পায়নি। সমাজে পরিচিত মুখ, শিক্ষিত লোক, ভদ্র এবং অমায়িক এই লোকটার হঠাৎ কি হলো? উনি আমার কথায় চোখ ছলছল করে ছোট্ট বাচ্চার মতো কেঁদে উঠলো। তারপর লোকটা যা বলেছে তা আমি পাঠকের জন্য তুলে ধরছি।

উনার বড় ছেলে শিশির। মদনপুর (ছদ্মনাম) বন্ধুদের সাথে মেসে থাকতো। একদিন মেসে মদনপুরের (ছদ্মনাম) এক প্রভাবশালী নেতার আদরের দুলাল এসেছিল কার নাকি খোঁজ করতে। সেই নেতার ছেলে শিশিরের মেসে কিছুক্ষণ থেকে চলে যায়। রাতেই থানা থেকে পুলিশ আসে। শিশির সহ রুমের আরো পাঁচজন, মোট ছয়জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। থানার লকআপে শীতার্ত রাতে শিশির সহ সবার ঠাঁই হয়। অভিযোগ- ধনীর দুলালের মোবাইল চুরি যায়, যার বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকা। রাত ১২টার মধ্যেই শিশির ছাড়া বাকি পাঁচজন বিশেষ বিশেষ প্রক্রিয়ায় থানা থেকে  ছাড়া পেয়ে যায়। এই বিশেষ প্রক্রিয়া হল পাঁচজনের মধ্যে একজন বিএনপি নেতার ভাতিজা, অন্যজন আওয়ামীলীগের এক ডাকসাইটের নেতার সাধারণ সম্পাদকের (শহর শাখার) ভাগিনা, অন্যজন এক প্রভাবশালী  সাংবাদিক মামার ভাইয়ের ছেলে আর অন্যজন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির বাবা ঘোষালের বউয়ের ননদের পিসির দেবরের পুত্র। যারা ছাড়া পেলো তারা সবাই এক বাক্যে থানা থেকে যাবার সময় বলে গেছে শিশির হয়তো চুরি করেছে। শিশির গরীবের সন্তান, বয়স খুবই অল্প। বয়স ১৮ এর কাছাকাছি। তোতলামী ওর জন্মগত দোষ। মেসের টিনের ছাদে রাতে ঢিল পড়লেও শিশির রাতে ভয়ে চিৎকার জুড়ে দিতো।

মদনপুর (ছদ্মনাম) থানা থেকে যখন সবাইকে (শিশির ছাড়া) বের করে নেওয়া হয়। তখন লকআপের ভিতর খালি পায়ে লুঙ্গি ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা শিশির মাগো-বাবাগ্ োকরে কাঁদতে থাকে। সেই রাতেই থানা থেকে পুলিশের সোর্স শিশিরদের বাড়ীতে আসে। শিশিরের বাবাকে ধমক দিয়ে বলে, আপনার ছেলে এক নম্বর আসামী কাল কোর্টে চালান দেওয়া হবে এবং কোর্ট থেকে রিমান্ডে আনলে পরে আপনার ছেলের খবর আছে। তাই রাতের ভিতর বিশ হাজার টাকা দিন। তা না হলে ছেলেতো স্বীকার যাবে যে মোবাইল সেই চুরি করেছে। জানেন তো, নতুন  ওসি খুব কড়া এবং সৎ। যে এস.আই মামলা দেখবে উনি আমার আত্মীয়। ছেলেকে যাতে না মারে বা রিমান্ডে না আনে সেই জন্য চা পানি বা কিছু খরচাপাতির ব্যাপার স্যাপার আছে তো, তাই জলদি টাকা দিন। আর টাকা না দিলে আরো দশটা মামলা ঠুকায়ে দেবো। যাতে জীবনে ছাড়া না পায়। শিশিরের প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক বাবার কাছে ঐ রাতে ঘরে আসা পুলিশের সোসর্কে আজরাইলের মত মনে হলো। সোর্স রূপী আজরাইলটা জানটা চায়নি, মাত্র বিশ হাজার টাকা চেয়েছে। শীতের রাতে ঘরে সদ্য ফুল স্পীডের ফ্যানের বাতাসও শিশিরের বাবার কাছে তখন মরুভূমির তপ্ত হওয়ার মত মনে হলো। সোর্সের সামনে শিশিরের বাবা যেনো ঘুরে পড়ে যাবে। সন্তানের লাশ, সন্তানের বিপদের কথা প্রকৃত øেহময় পিতার কাছে পাহাড় বুকে চেপে ধরার কষ্টের মত লাগে।

নিজের ঘরে রাখা তিন হাজার ও আমার এবং অন্যান্য উৎস থেকে ধার করে মোট হাজার দশেক টাকা সেই রাতেই পুলিশের সোর্সের হাতে শিশিরের বাবা তুলে দিয়েছিলা, যাতে ছেলেটার উপর অত্যাচারের ঘটনা না ঘটে। কিন্তু ঘটনা ঘটে গেছে অন্যভাবে। শিশিরের বাবা শিশিরকে প্রায় দুই মাস কোট-কাচারির চক্কর ঘুরে জামিনে মুক্ত করাতে সক্ষম হয়। কারাগার থেকে মুক্ত হলেও হাসপাতাল, ডাক্তার, নার্স ইনজেকশনের সুঁচ অপারেশন থিয়েটার আর ক্র্যাচে ভর করে হাটা থেকে শিশির কবে মুক্ত হবে সুপ্রিয় পাঠক আমি আজও জানতে পারিনি বা কোনকালেই জানতে পারবো না। শুধু মাঝে মাঝে খবর পাই ঐ গল্পের নায়ক শিশির বেঁচে আছে আজো আল্লাহর রহমতে। হয়তো পাঠক আপনারা এখন জানতে চাচ্ছেন শিশির দোষী কিনা? এটা এই কলামের শেষে জানাবো, তার আগে জানুন- থানার লকআপ ও পুলিশি রিমান্ডের ভায়ালেন্স কাহিনী। পুলিশের সোর্সরা এমনই কাজ করে থাকে। আসামী ধরার পর প্রথমদিন থেকে ওদের তান্ডবে আসামীর পরিবার পরিজন তটস্থ থাকে। সোর্সের বলা নানা ভয়ভীতিতে একটা পরিবারে তখন রান্নার চুলা জ্বলে না, সবাই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। একজন মানুষকে গ্রেফতার করলেই সে অপরাধী হয় না। যে পর্যন্ত সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধ প্রমাণিত না হয় এবং সেটা পুলিশ আদালতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপস্থাপন করে প্রমাণের চেষ্টায়। কিন্তু আসলে অন্য নাটকই গ্রেফতারের সাথে সাথে শুরু হয়। থানায় আসামীকে তার পরিবার পরিজন দেখতে গেলে টাকা, মামলা কি, গ্রেফতারের কারণ কি তাতেও টাকা ঢালো মোট কথা গ্রেফতার বাণিজ্যের রমরমা দশা। আর এই বাণিজ্যের মূল ভূমিকায় কোন পুলিশ থাকে না। এরা প্রায়ই থাকে পর্দার আড়ালে যেন দুধে ধোয়া তুলসী পাতার মত। যেনো ফ্রেশ এন্ড হোয়াইট টুথপেষ্ট উইথ জার্মিচেক। মূল ভূমিকা নেয় পুলিশের সোর্সরা। থানার দালাল বা যে পুলিশ এই কাজে বা পেশায় আসার আগে ফাইভ স্টার সিগারেটও কিনেও খেতো পারতো না সে তখন টানে বেনসন এন্ড হেজেস। সোর্স বা থানার দালালের আতঙ্কে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিজনদের ব্লাডপ্রেসার ভীষন লো হওয়া থেকে থালা, বাটি, নাকফুল, গরু বাছুর, ছাগল এমন কি ঘরের টিন বেচার কার্যক্রমও মামুলী ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শিশিরের শিক্ষক বাবারও তাই হয়ে ছিলো। পাক-ভারত-বাংলাদেশের থানাগুলোতেই গ্রেফতার পরবর্তী বাণিজ্যের কারণেই গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি পরিবার পরিজনরা পথের ফকিরও হয়ে যায়। পরবর্তী আইনী লড়াই করার জন্য অর্থ সংকুলান ও ঐসব পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ হারায়। মানুষ গ্রেফতার হলেই যে অপরাধী হয় তা কি ঠিক? গ্রেফতার পরবর্তী বাণিজের অর্থ আদায় কি হালাল? এটা কি চাপে ফেলে অর্থ আদায় করা নয় কি? কোন একটা সভ্য সমাজে বা সভ্য দেশে এই সব গ্রেফতার বাণিজ্য আছে কি? যারা এই সব করে তারা কি হারাম-হালাল বুঝে না? গ্রেফতার হলেই কি অপরাধী? যাক এবার শিশিরের রিমান্ড পর্ব বলি। শিশিরকে যখন ধরে আনা হয় তখন শিশির বারবার বলেছিল আমি মোবাইল চুরি করিনি। কিন্তু পুলিশ তার কথায় কান দেয়নি, উল্টা পুলিশ শিশিরের অস্বীকারোক্তির কারণে প্রথমে কয়েকটা চড়-থাপ্পড় দিয়েছিল শিশিরকে। শিশির থাপ্পড় খেয়ে পুলিশকে গালি দিয়েছিল। এছাড়া শিশির যখন দেখল তার সাথে মেসের ধরে আনা অন্যান্য ছাত্রদের রাজনৈতিক নেতা এবং প্রবাবশালীরা থানা থেকে ছাড়ায়ে নিয়ে যাচ্ছে তখন শিশির রাজনৈতিক নেতা ও প্রবাবশালীদের গালি-গালাজ করেছিল। পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজের প্রবাবশালীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করাটাই শিশিরের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এতটুকুন একটা পুচকে ছেলে পুলিশকে গালি-গালাজ দেবে, এটা পুলিশের সহ্য হয়নি। তাতেই শিশিরের কপালে জোটে রিমান্ড পর্ব। নেতার ছেলের মোবাইল চুরির স্বীকারোক্তী আদায়ের জন্য শিশিরের মলদ্বারে গরম সিদ্ধ ডিম ঢুকানো হয়েছে।

টেবিলের উপর উপুর করে শোয়ায়ে পায়ের পাতায় গজারির লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে। গাছের ডালে উল্টা করে লটকায়ে মোট গামছা ভিজিয়ে তা আবার দু’ভাজ করে মোটা রশির মত বানায়ে বুকের ছাতিমে দুম দুম করে দুই ঘন্টা পিটানো হয়েছে। চুলের মুঠি ধরে বরফ ঠান্ডা পানিতে বারবার অনেকক্ষণ ধরে চুবানো আর উঠানোর টম এন্ড জেরীর কার্টুন খেলা খেলানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে। মাথার উপর দশটা ১০০ পাওয়ারের বাল্ব সারা রাত জ্বালিয়ে রেখে তাকে চেয়ারের বসিয়ে রাখা হয়েছে। এমনভাবে যাতে ঘুমাতে না পারে। ঘুমাতে গেলেই পায়ের পাতায় গজারীর লাঠির বাড়ি ধপ্ ধপ্ করে পড়তে শুরু করে। এভাবে পুরা রাত ছেলেটাকে না ঘুমিয়ে রাখা হয়েছে। শিশিরের এক গোছা দাড়ি ছিলো তাই তাকে জঙ্গী সন্দেহে মারের তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে। তাতেও শিশির মোবাইল চুরির কথা স্বীকার না করার কারণে প্লাস দিয়ে তার হাতে পায়ের সমস্ত নখ তুলে নেওয়া হয়েছে। হাতে ফোটানো হয়েছে সুঁই। নেতার ছেলের মোবাইল চুরি এটাতো পুলিশের তাতে ইজ্জতের ব্যাপার। চোর প্রমাণ করতেই হবে নতুবা নেতার কাছে পুলিশের কোন দাম থাকবে না।

প্রিয় পাঠক! এটা মদনপুর থানাও নয় এটা হাজারো শিশিরের কাহিনী যারা রিমান্ডে ছিলো। আর এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয় পাকিস্তান, ভারত এর প্রায়ই থানায় অহরহ ঘটছে। আমি গল্পই লিখলাম মনে করুন কিন্তু উদ্দেশ্য আমার সৎ। মানুষ অপরাধ করলে ধরাও পড়ছে। তাই বলে অমানবিক, অমানুষিক, পশুত্বময়, পৈশাচিক নির্যাতন চালানো কি ঠিক? গ্রেফতার পরবর্তী বাণিজ্যে কি হালাল? আমার আওয়াজ বা সুপারিশ একজন সাধারণ নাগরিকের কাতারে। আমি নাগরিক অধিকার হিসাবেই দেশের সংবিধান প্রণেতা, বিজ্ঞ, বিদগ্ধ, জ্ঞানী, নীতি নির্ধারক সুবিবেচক মহলের কাছে গল্পের আকারে এই ঘটনা তুলে ধরছি। কাউকে হীন করা, কুটক্তি করা, ব্যঙ্গ করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতিকল্পে পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সংস্কার অর্থ্যাৎ অবস্থার টোটাল গুণগত উন্নয়ন ও পুলিশের বেতন বৃদ্ধি সময়ানুসারে বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। পুলিশ যে শান্তি প্রিয় জনগণের সাহায্যকারী ও সেবক এ সত্যটি পুলিশকেই প্রমাণ করতেই হবে। যে ক্ষেত্রে ব্যক্তি সনাক্তকরণ, সম্পত্তি উদ্ধার বা শনাক্তকরণ বা অনুরূপ বিশেষ কারণে পুলিশের তদন্ত কাজের সুবিধার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতি প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে রিমান্ড মঞ্জুর করা যেতে পারে। তবে রিমান্ড আবেদন শুনানীর সময় ম্যাজিস্টেটের সামনে আসামীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। যদি আসামী তার নিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে কোন বক্তব্য প্রদান করতে চান, তবে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং তা বিবেচনাপূর্বক ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ডের আদেশ প্রদান করবেন। শুধুমাত্র স্বীকারোক্তি আদায়ে রিমান্ড মঞ্জুর করা যাবে না। সাধারণত তিনদিনের বেশী রিমান্ড মঞ্জুর করা যাবে না। রিমান্ড বাড়াতে হলে আসামীকে অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। রিমান্ড মঞ্জুরের আগে বন্দীকে ডাক্তারী পরীক্ষা করিয়ে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে। রিমান্ডে নির্যাতন, নিপীড়ন বা অমানবিক আচরণ করা যাবে না। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের আগে বন্দীকে তার নিযুক্ত আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে। রিমান্ডে থাকা বন্দীকে প্রতি ৪৮ ঘন্টা পর পর ডাক্তারী পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। রিমান্ডে থাকা বন্দী প্রাণের ভয়ে মিথ্যা বলে তাই অনেক ক্ষেত্রে সত্য চলে যায় পর্দার আড়ালে। এটাও পুলিশকে ভেবে ভেবে কাজ করতে হবে। রিমান্ডে নেবার আগে বন্দীর আত্মীয় স্বজনদের বন্দীর অবস্থান জানাতে হবে। রিমান্ডে নির্যাতন, নিপীড়ন নয় বরং জিজ্ঞাসাবাদের বুদ্ধি প্রয়োগ, মনস্তাত্তিক চাপ, কৌশল হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। উন্নততর কৌশল, নিপুন, বুদ্ধিমত্তা ও মনস্তাত্তিক চাপ কিভাবে প্রয়োগ করতে হয় তার জন্য জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রয়োজনে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় “লাই ডিটেক্টর টেস্ট’’ এবং ট্রুথ টেলিং ড্রাগস এর সাহায্য নেয়া যেতে পারে। যুগোপযোগী ও উন্নত বিশ্বের জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি আয়ত্বের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো যেতে পারে। এছাড়াও ঘটনা প্রমাণের স্বার্থে ডগ স্কোয়াড বা অডিও বা ভিডিও এর সহায়তা নেয়া যেতে পারে। পুলিশি নির্যাতন বাংলাদেশের সংবিধান ( অনুচ্ছেদ ৩৫ (৫) এবং সার্বজনীন মানবাধিকার সনদে (অনুচ্ছেদ ৫) নিষিদ্ধ। এমনকি পুলিশি নির্যাতন দেশের প্রচলিত পুলিশ আইন (পুলিশ অভিধান ৩৩ (খ) ধারা এবং পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ৫৫ ধারা) অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সুতরাং প্রত্যাশা করি পুলিশ জনগণের বন্ধু হবে, সজাগ হবে এবং মানবিক হবে। সুপ্রিয় পাঠক ও বিদগ্ধ জ্ঞানীজন- উপরোক্ত ঘটনা গল্পের আকারে আমি লিখেছি। কিন্তু এই ঘটনা সত্য ও মিথ্যাও হতে পারে, আমি সেদিকে যাচ্ছি না বা বলতে পারছি না। আমি শুধু একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের সবার কাছে ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে একটি গবেষণা ও সুচিন্তিত নাগরিক মতামত প্রকাশ করেছি। বিচার বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা একজন মানুষের যথার্থ মানবিক দায়িত্ব।

পাদটিকা: মাদক আমাদের সমাজে আজ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একজন মাদক সেবী একটি পরিবার ধ্বংসের জন্যই যথেষ্ট। সুপ্রিয় পাঠক! আমি বিশেষ সূত্রে জেনেছি লাকসামের জংশন, পাশাপাশি চুনাতি গ্রাম, গাজীমুড়া, ফতেপুর, মোহাম্মদপুর, কাদ্রা, রাজঘাট, পঁশ্চিমগাঁও, কান্দিরপাড়, বাতাখালী এমন কি মনোহরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আজকাল ফেন্সিডিল, ইয়াবাহ, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যে সয়লাভ। এতে সমাজের তরুণ এবং অনেকেই আক্রান্ত মাদক সেবনে। এই মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে এই গল্পটির অবতারণা। বড় লোকের বখাটে ছেলেটি মাদক সেবী ছিল। মাদক ক্রয়ের জন্যই সে তার নিজের মোবাইল বিক্রি করেছিল। প্রকৃতপক্ষে শিশির মোবাইল চুরি করেনি। অথচ ঐ বড়লোকের ছেলেটি পিতার শাসন থেকে বাঁচার জন্য শিশিরের মত একটি নিরীহ ছেলেকে ফাঁসালো। আজ সময়ের দর্পণ’র সকল পাঠকের প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ যেখানেই মাদকের আখড়া, মাদকসেবী, মাদকবহনকারী, মাদক ব্যবসাকারী পাবেন সম্মিলিতভাবে সবাই এগিয়ে যাবেন প্রতিহত করতে। নতুবা আমাদের সামাজিক, পারিপার্শ্বিক জীবন ধ্বংসের পথে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা মাদকগ্রহণকারীর চেতনা, বিচারবুদ্ধি ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়, যখন সে মাদক গ্রহণ করে। আর ইসলামে আছে, মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা হারাম।

(235)

LaksamDotKom
By LaksamDotKom অক্টোবর ২১, ২০১৩ ১৬:২০
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Leave a Reply