ছাত্রলীগের ইতিহাস মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস

LaksamDotKom
By LaksamDotKom জানুয়ারি ৩, ২০১৮ ১৫:৪৯

ছাত্রলীগের ইতিহাস মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস

শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভ্রাতপ্রতীম, দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী, অধিকার আদায়ের রক্ষার ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাঙ্গালির রাখাল রাজা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি’ মানবীয় শ্লোগান দিয়ে গঠন করেন ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি। সংগঠনটি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠনের এক বছর আগেই গঠন করেন জাতির পিতা। প্রজ্ঞাবান জাতির পিতা জানতেন, অক্ষয় মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজই পারে মানবীয় দেশ গড়ে তুলতে। আর তাই বিশ্ববাসী দেখেছে ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ‘৫৮ সালের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ‘৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ‘৬৬ সালের ছয় দফা বাস্তবায়ন ও ১১ দফা দাবি প্রণয়ন, ‘৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ‘৭০ সালের নির্বাচন, ‘৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীরাই ছিল অগ্রবর্তী সৈনিক। জীবন দিয়েছে মানব অধিকার তরে। রক্ষা করেছে বাঙ্গালি জাতির সম্মান ও অধিকার।

জাতির পিতার ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত, সাম্য-সমতা, অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নের সোনার বাংলার গঠনের জন্য এ ছাত্র সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। একাত্তরে জাতির পিতা যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন তখন জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিয়ে এই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই সর্বাগ্রে অতীতের ন্যায় রাজপথে বেরিয়ে আসেন। এ ছাত্র সংগঠনটি বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে দিতে জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে ১৭ হাজার নেতা-কর্মী বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। সুতরাং বুকের তাজা রক্ত দিয়ে কেনা যে বাংলাদেশের মানচিত্র তার বড় একটি অংশের দাবিদার এই ছাত্রলীগ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য জাতির পিতাকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমে সর্বপ্রথম প্রতিবাদী মিছিল করেছে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমত কাদির গামার নেতত্বে ছাত্রলীগ। পঁচাত্তর পরবর্তী মৃত্যু উপতক্যায় পরিণত হওয়া বাংলাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আত্মদানের এই মিছিল কেবল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। কিন্তু থেমে থাকেনি প্রতিরোধ। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে হত্যা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী, গণতন্ত্রের মানসকণ্যা ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বিশ্ব মানবতার নেত্রী মাদার অব হিউম্যানিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিটি সংগ্রামেই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

এক এগারোর পরবর্তী চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এ কারণে গণতন্ত্রের মানসকণ্যা দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে থাকেন, বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই ছাত্রলীগের ইতিহাস।যা বঙ্গবন্ধুও বলে গেছেন বারংবার। গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলদারী স্বৈরশাসকদের হটাতেও এই ছাত্র সংগঠন নীল পোশাকী সামরিক জান্তাদের শক্ত হাতে জবাব দিয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরব উজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে এ ছাত্র সংগঠনের। থাকবেই না কেন? শান্তিকামী বিশ্বের অগ্রবর্তী সৈনিক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এ ছাত্র সংগঠন। কারণ এ ধরা জানে, মহৎ, সৎ এবং পরমসহিষ্ণু হৃদয়ের উদ্দেশ্যই থাকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবতার কল্যাণ। এ বৃহৎ কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতেও দরকার হয় অগণিত নিবেদিত কর্মীর। শুধু কর্মী হলেই চলে না এদেরকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, দেখাতে হয় সঠিক পথ। ছাত্রলীগের সৃষ্টিকাল হতে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অত্যন্ত সফলতার সাথে তাদের এ মহান দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন। হয়েছেন বাংলার ইতিহাসের নায়ক।

ছাত্রলীগ মানবতার কল্যাণে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে দেশের ৫০ লক্ষাধিক ছাত্রদের মহৎ নিয়ম শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ বিশ্বের শান্তির অগ্রদূত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু যত মানবীয় নিয়ম নীতি রক্ষার বাহক হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠন করে গেছেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আর দেশের যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দূরন্তগতিতে এগিয়ে চলেছে ছাত্রলীগ। একবিংশ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই ছাত্র সংগঠন অসহায় দুস্থদের পাশে বারবার দাঁড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শুধু আওয়ামী চেতনা থেকে মানবতার চেতনার পথে পথে শান্তি আর মুক্তির বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর। মানবতার ডাকে এই ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা নিজের রক্ত দিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকার দৃশ্য একাধিকবার দেখেছে শান্তিকামী বিশ্ব। ২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধ্বসের সময় হাজার হাজার ব্যাগ রক্ত দিয়েছে এ মানবীয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। দেবেই না কেন? ছাত্রলীগের রক্তের প্রতিটি ফোঁটায় রয়েছে বঙ্গবন্ধুর মানবতাবাদী দর্শন, রয়েছে ত্যাগের মহিমার রক্ত জড়ানোর ইতিহাস, অধিকার আদায়ের প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস। শুধু রক্ত দিয়েই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষান্ত থাকেনি এ ছাত্র সংগঠন। তাঁরা অসহায় দুঃস্থ মানুষের পেটে অন্ন এবং বস্ত্রহীনে বস্ত্র তুলে দেওয়ার একাধিকবার বিরল নজির স্থাপন করেছে।

২০১৫ সালের এপ্রিলে নেপাল যখন ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যু উপতক্যায় পরিণত হয় ছাত্রলীগের তখনকার মানবীয় দায়িত্ব ভুলে যাওয়ার নয়। নেপালবাসীর চরম দুর্দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নেপালবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড নেপালিজ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ’ এর হাতে নগদ ছয় লাখ টাকা তুলে দেন সংগঠনটির তৎকালীন নেতারা। পাশাপাশি ছাত্রলীগ মৃত্যুপুরী নেপালবাসীর জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে তহবিল সংগ্রহ করেছে। তহবিল সুষ্ঠুভাবে নেপাল বাসীরকাছে দেওয়ার মত মহৎকাজ করেছে এ সংগঠন।

দেশরতœ শেখ হাসিনার অন্যতম সফলতা ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সেই বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় ৫০০০০ গাছ লাগায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।মায়ানমারে রোহিঙ্গা সঙ্কটে মাদার অব হিউম্যানেটি শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও মানবতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগ জীবন সংকটাপন্ন রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠিত মেডিকেল ক্যম্প এর মাধ্যমে তিন মাসের বেশী সময় রোহিঙ্গাদের মাঝে টানা চিকিৎসা সেবা ও ওষধ সামগ্রী সরবরাহ করে যাচ্ছে। যা একটি ছাত্র সংগঠনের জন্য বড়ই গর্বের বিষয় হতে পারে। কিন্তু ছাত্রলীগের জন্য স্বাভাবিক। কারণ ছাত্রলীগ সূচনা লগ্ন থেকেই মানবতার জন্য কাছ করে যাচ্ছে।

অতীতে বাংলাদেশে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বর্তমান সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় কর্মী তৈরীর মাধ্যমে দেশ গঠনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলছে প্রতিনিয়ত। এভাবেই বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিজ মহিমায় ভাস্বর হয়ে থাকবে, দীপ্তি ছড়াবে যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
লেখক: সাধারণ সম্পাদক- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

 

(5)

LaksamDotKom
By LaksamDotKom জানুয়ারি ৩, ২০১৮ ১৫:৪৯
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Leave a Reply