লাকসাম মুক্ত দিবস উপলক্ষে লাকসামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শিব্বীর আহমেদ এর শুভেচ্ছা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা

LaksamDotKom
By LaksamDotKom ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ ১৩:১৬

লাকসাম মুক্ত দিবস উপলক্ষে লাকসামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শিব্বীর আহমেদ এর শুভেচ্ছা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা

লাকসাম: ১১ ডিসেম্বর লাকসাম মুক্ত দিবস। বৃহত্তর লাকসামের (লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, সদর দক্ষিন) মুক্তিপাগল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মহান ত্যাগ আর রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ১১ ডিসেম্বর পাকীস্তানী হানাদার বাহিনির কবল থেকে মুক্ত হয় লাকসাম। মুক্তির এইদিনে বৃহত্তর লাকসামের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানাই।

আজকের এইদিনে কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করি ক্যাপ্টেন আবদুল জলিল ওরফে লাল মিয়া, কর্ণেল মাহবুব, ব্রিগেডিয়ার দিদারুল আলম, মেজর এনাম আহমেদ, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী খোরশেদ আলম, ফ্লাইট সার্জন সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। যুদ্ধের সময় শক্তিশালী এফএফ বাহিনীর প্রধান জহিরুল ইসলাম এবং বিএলএফ কমান্ডার মরহুম ছায়েদুল ইসলাম ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার আবুল বাশার সহ নাম না জানা অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের। স্মরন করি শহীদ দেলোয়ার, হারুন, মোকলেছ মনোরঞ্জন, আনোয়ার, মকরম আলী, মোস্তফা কামাল, সোলায়মান, শহীদ আবদুল খালেক, শহীদ আবুল খায়ের না জানা অগনিত শহীদের। শান্তি কামনা করি তাদের বিদেহী আত্মার।

এছাড়াও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষন ও নেতৃত্বদাতাদের মধ্যে অন্যতম তৎকালীন এমসিএ মরহুম জালাল আহমেদ, সাবেক গনপরিষদ সদস্য মরহুম আবদুল আউয়াল, মরহুম একে চৌধুরী, মরহুম মোঃ জিন্নতের রহমান ভাষানী, মরহুম মোস্তফা কামাল খান, সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর, আবদুল করিম চৌধুরী ওরফে মানু মিয়া, বিএলএফ কমান্ডার মরহুম ছায়েদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল বারী মজুমদার, জাহাঙ্গীর মাওলা চৌধুরী, আবুল হোসেন ননি, শেখ আহসানুজ্জামান মিরন, মরহুম আবদুল হাই মঞ্জু সহ অসংখ্য সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের।

বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। একই সাথে লাকসামবাসীর জন্য ১১ ডিসেম্বর গুরুত্বের ও তাৎপর্যের। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে ১১ ডিসেম্বর লাকসামের মুক্তিযোদ্ধারা তাদের চুড়ান্ত বিজয় লাভ করে। আর একই ধারাবাহিকতায় ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালীর চূড়ান্ত বিজয় পরিপূর্ণতা পায়। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের কোন আকস্মিক ঘটনা নয়। জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতির দীর্ঘ তেইশ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। বিজয়ের এই ক্ষনে কৃতজ্ঞ চিত্তে আরো স্মরণ করি ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দু’লাখ মা-বোনকে যাদের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন দেশ। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার আহবানে সাড়া দিয়ে জয় বাংলা স্লোগানে স্লোগানে লাকাসাম সহ সারাদেশের মানুষ নয় মাসের মরণপণ যুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করে।

২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। এ সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি সুখী, সুন্দর, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সবার লক্ষ্য। যেখানে প্রতিটি নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

১১ ডিসেম্বর লাকসাম মুক্ত দিবস। এইদিনে দলমত নির্বিশেষে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও লাকসামের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য আহবান জানাই। আহ্বান জানাই লাকসামকে জেলা ঘোষনার দাবীতে ঐক্যবব্ধ হবার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লাকসাম একদিন জেলায় পরিনত হবে ইনশাল্লাহ।

(5)

LaksamDotKom
By LaksamDotKom ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ ১৩:১৬
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Leave a Reply