রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শতকরা আশি জন নারী ও শিশু অসুস্থ

LaksamDotKom
By LaksamDotKom অক্টোবর ১৪, ২০১৭ ০৯:৪৩

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শতকরা আশি জন নারী ও শিশু অসুস্থ

উপাধ্যক্ষ এ.টি.এম সাইফুল ইসলাম মাসুম : মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে সংকটে রয়েছে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা৷ মঙ্গলবার টেকনাফের লেদা ক্যাম্প থেকে ফিরে এসে ভাষা পাচ্ছি না কি লিখব। যত গুলো শিশু চোখের সামনে পরেছে তারা সবাই অসুস্থ। অনেক মহিলারা গর্ভবতী। ছোট বড় সবার মাঝে যেন আতঙ্ক। কিছুই বলছে না শুধু চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। সন্তানদের অসুস্থতায় তারা আরও ভেঙ্গে পরেছে।

কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে। কবির এ বাক্যটা ব্যবহার করলাম এই জন্য যে ওখানে না গেলে সত্যিই আমরা বুঝতাম না রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কি যে করুন অবস্থা। আমার বার বার মনে হচ্ছিল ১৯৭১ সালে আমাদের বাংঙ্গালীদেরও ( এককোটি শরণার্থীদের ) কি ভারতে এই অবস্থা হয়েছিল? রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কষ্টের কথা, তাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার যন্ত্রণা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, ভয় এবং তাদের দুর্দশা বর্ণনা করার মতো কোনো ভাষা নেই আমার। কবে তাদের এই দুর্দশা কাটবে, তা কেউ বলতে পারে না। বাংলাদেশের জনগণ মানবতার প্রকৃত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সীমিত জায়গা, খাদ্য ও তহবিল সেই সব অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে, দেশের বিভন্ন এলাকা থেকে শত শত মানব প্রেমিক ত্রান সামগ্রী নিয়ে ছুটছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে, আমি ওই সব মানব প্রেমিদের জানাই হাজার সালামও ভালবাসা।

গত কয়েক দিন যাবত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকটি নির্ধারিত স্থানে স্থায়ী শরণার্থীশিবির গড়ে তোলা, সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম এবং শরণার্থীদের প্রয়োজন বুঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ। দেবিদ্বার থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যে দল টি টেকনাফে গিয়েছিলাম আমাদের কে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অনেক সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা মেডিকেল ক্যাম্প করতে সক্ষম হয়েছি।

শরণার্থীদের সহায়তায় আন্তরিকতা এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টা থাকার পরও একটি বিষয় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। শরণার্থী নারী ও কিশোরীদের বিশেষ চাহিদা বা প্রয়োজনের দিকে সেভাবে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না। শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও নারীরা তাদের পরিবারকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার জন্য অসম্ভব ধৈর্য প্রদর্শন করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এটি সম্ভবত খুব সামান্যই সত্য যে বেশির ভাগ পুরুষ সীমান্ত অতিক্রম করেনি। হয় তাদের হত্যা করা হয়েছে অথবা অধিকার আদায় করতে লড়াই করার জন্য তারা ফিরে গেছে।

নারী ও কিশোরীদের সমস্যা বহুবিধ। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মাসিক বা পিরিয়ড হওয়া। আমাদের মতো সমাজে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা একরকম নিষিদ্ধ। কিন্তু এটাই বাস্তবতা যে একটা বয়সে পৌঁছানোর পর সব মেয়েদেরই মাসিক হয়। এটি মেয়েদের একটি বিশেষ অবস্থা। শরণার্থী নারী ও কিশোরীরা কীভাবে এই বিশেষ অবস্থা মোকাবিলা করছে, যেখানে তাদের এখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে কিছু নেই। মেডিকেল ক্যাম্প করার কারনে অনেক গর্ভবতী মায়েরা আসেন আমাদের ক্যাম্পে। ওই সব মায়েদের সাথে কথা বলে জানা যায় গর্ভবতী মায়েদের এই মুহুর্তে উচ্চতা, ওজন, রক্তশূন্যতা ও রক্তচাপ রেকর্ড করা জরুরী দরকার এবং কিছু প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করাও দরকার। আমরা কিন্তু এসবের কিছুই করতে পারিনি।

এখন ত্রাণকর্মীর সংখ্যা ও ত্রান বাড়াতে হবে। প্রকৃত পক্ষে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে ত্রান সামগ্রী পায় সেদিকে খেয়াল রাখা খুব জরুরী। গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা নেওয়া জরুরী। শিশুদেরও উন্নত চিকিৎসা খুবই দরকার। আমরা যারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এখন ত্রান নিয়ে যাব , শুধু খাদ্য সামগ্রী,বাচ্চাদের দুধ আর পরিবারে যেসব উপদান প্রয়োজন এসব নিয়ে যাব। নগদ টাকা কোন ক্রমেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের হাতে দেব না।

(3)

LaksamDotKom
By LaksamDotKom অক্টোবর ১৪, ২০১৭ ০৯:৪৩
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Leave a Reply