শামছুল করিম দুলাল একটি নাম, একটি আন্দোলন!

LaksamDotKom
By LaksamDotKom জুলাই ১১, ২০১৭ ১৫:৫৩

শামছুল করিম দুলাল একটি নাম, একটি আন্দোলন!

আজিম উল্যাহ হানিফ : শামছুল করিম দুলাল একটি নাম, একটি আন্দোলন, একটি প্রতিষ্ঠান। সর্বোপরি একজন সম্পাদক। মনে প্রাণে একজন সাংবাদিক। লেখাপড়া করেছেন মাদ্রাসা লাইনে দাখিল, আলিম,ফাযিল ও কামিলে। আর জেনারেলে পড়েছেন লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেসা কলেজ থেকে ডিগ্রিতে। ডিগ্রিতে পড়াশুনাকালীন হন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সদস্য। দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সম্পাদকের। পাশাপাশি করেন ছাত্রছাত্রী কল্যাণ পরিষদ। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে মেতে থাকতেন তিনি। তাইতো অল্পদিনে সবার মন জয় করতে সক্ষম ও হন। যার ফলে কলেজ ছাড়িয়ে বৃহত্তর লাকসামের আওয়ামী পরিবারের বড়-ছোট নেতাদের সাথেও কম বেশ উঠাবসা ছিল তার। লেখাপড়া অবস্থায় প্রকাশ করেন দিশারী নামে একটি ম্যাগাজিন। এই ম্যাগাজিন থেকে প্রকাশ করেন ২০০১ সালের ৬জুন থেকে সাপ্তাহিক আলোর দিশারী।

আলোর দিশারী ছাড়াও তিনি আরো ৩টি সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন,পত্রিকাগুলো হলো সাপ্তাহিক পপুলার, সাপ্তাহিক দপ্তর বার্তা, সাপ্তাহিক নয়ারবি। মূলত তাকে লাকসাম তথা কুমিল্লার মানুষ আলোর দিশারীর দুলাল নামেই চিনতো। তিনি পত্রিকা সম্পাদনার পাশাপাশি আলোর দিশারীর প্রত্যেক সংখ্যায় আদা বেয়ারীর জাজের খবর নাম্ েএকটি কলাম লিখতেন। কলামটির কারণে পত্রিকাটির কাটতি ছিল অনেক। পত্রিকা সম্পাদনাকালীন ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত লাকসামে অবস্থান করলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় অফিসও পাশাপাশি বাসা নেন। পত্রিকা বের করে নিয়মিত মঙ্গলবার তিনি লাকসাম চলে আসতেন। এটা ছিল তার রুটিন মাফিক। এভাবেই তার লেখালেখি, সাংবাদিকতা আর পত্রিকা সম্পাদনা চলতো।

শামছুল করিম দুলাল ১৯৭৫ সালে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সিংজোড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৩ বোন ৪ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ৬ষ্ঠ। লেখাপড়া মাদ্রাসা লাইনে কামিল পাশ করেন ও জেনারেলে ডিগ্রি পাশ করেন। ২০০৪ সালে নাঙ্গলকোটের লক্ষীপদুয়া গ্রামের সামাজিক ব্যক্তিত্ব ছেরাজুল হকমিয়াজীর বড় মেয়ে ফয়জুন্নেসা সুমীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তার একটি ছেলে। নাম দ্রোহী শামছ। দ্রোহী শামছ ঢাকা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়াশুনা করে। দুলাল আগাগোড়ায় একজন সাংবাদিক পেশার মানুষ হলেও তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতির সমালোচক, চিন্তাবিদ, কবি ও গবেষক। একজন দক্ষ সংগঠক ও ছিলেন তিনি। একদম ছাত্রজীবন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংগঠন প্রিয় মানুষ ছিলেন। মিশতেন সবার সাথে। সাংবাদিকদের দাবি আদায়ে থাকতেন সবার সাথে। নাঙ্গলকোট, লাকসাম,মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, লালমাই, সদর দক্ষিন থানাসহ কুমিল্লা জেলাও ঢাকা শহরের নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য তিনি ছিলেন অন্ত:প্রাণ।

শামছুল করিম দুলাল ছিলেন ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস কাউন্সিলরের সদস্য, নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহবায়ক, বৃহত্তর লাকসাম সাংবাদিক সোসাইটির আহবায়ক, বাংলাদেশ সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক সমিতির সাংগঠনিক সচিবসহ নানান সংগঠন। ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত আলোর দিশারীসহ তার সম্পাদিত ৪টি সাপ্তাহিক পত্রিকার হাত ধরে এসেছে লাকসামসহ গোটা বাংলাদেশে প্রায় শতাধিক সাংবাদিক-কলামিষ্ট সৃষ্টি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- মহিউদ্দিন মোল্লা (দৈনিক আমাদের কুমিল্লার বার্তা সম্পাদক), জামাল উদ্দিন স্বপন( সবুজপত্রের সম্পাদক), ফারুক আল শারাহ (সাপ্তাহিক সময়ের দর্পনের বার্তা সম্পাদক), কামাল হোসেন জনি (বর্তমানে বিদেশে), জানে আলম (বর্তমানে নয়াআলোতে আছেন), বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, লোকমান হোসেন শান্ত, শহিদুল ইসলাম শাহীন,জাফর আহমেদ (সাপ্তাহিক কুমিল্লার নিবার্হী সম্পাদক), জহিরুল ইসলাম জহির ( সাপ্তাহিক মানবকথার সম্পাদক), মুকুল মজুমদার ( কবি), আইয়ুব আলী, মিলন, আবদুর রহিম (মনোহরগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক), খোরশেদ আলম চৌধুরী (নয়া আলোর সম্পাদক), ওমর ফারুক লিটন (রেল এ চাকুরী করেন), জহিরুল ইসলাম সাদ্দাম, মোখলেছুর রহমান (কমপিউটার অপারেটর), হায়াতুন্নবী মানিক (সুহৃদ কলেজের শিক্ষক), কাউছার আলম মিয়াজী ফয়জুন্নেসা সুমী, সালমা আক্তার উজ্জ্বল, সাদ্দাম হোসেন মিয়াজী, শাখাওয়াত হোসেন (অফিস স্টাফ ছিলেন,বর্তমানে কুয়েতে আছেন), রেজাউল করীম রেজু,), সিরাজুল ইসলাম রাহী মিনু (মরহুম), রফিকুল ইসলাম শান্ত ( দৈনিক তরুনকন্ঠের সম্পাদক), মাঈন উদ্দিন মানিক (কম্পিউটার এ কাজ করতেন), তোফায়েল হোসেন মজুমদার, দুলাল মিয়া ( এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার সোসাইটির চেয়ারম্যান), মেহেদী হাসান আজিম, ইমরান হোসেন, সাইফুল ইসলাম হিরু (খিলা বাড়ি, বাংলাদেশ সময়ের লাকসাম প্রতিনিধি), আবু ইউসুফ, ফারুক, আনোয়ার হোসেন, মাহবুব হোসেন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, রায়হান সহ আরো নাম না জানা অনেকে। সাপ্তাহিক পত্রিকাতে দুলাল কবি ও লেখকদের কবিতা ,গল্প প্রকাশ করতেন। যার ফলে বহু কবি লেখক লেখা লিখতে ও প্রকাশে অনুপ্রেরণা পেতেন।

কবি-লেখকদের মধ্যে হলেন- ইয়াছিন মজুমদার (বর্তমানে অধ্যক্ষ ফুলগাও ফাযিল মাদ্রাসা), রফিক উল্লাহ আফাসারী ( মুহাদ্দিস-বাঙ্গড্ডা ফাযিল মাদ্রাসা), সালামত উল্লাহ, ফারুক শাহরিয়া (সময়ের দর্পণে নিয়মিত লিখেন এখন), এস এম আবুল বাশার (বর্তমানে বয়সের ভারে কবিতা লিখলেও নাঙ্গলকোটের বাসায় আছেন), গিয়াস উদ্দিন ফারুকী (বিদেশে আছেন), সাইফুল আনোয়ার স্বপন (সময়ের দর্পনে লিখেন), ইসমাইল হোসেন রতন (রাজনীতি করেন), সত্যি অর্থে শামছুল করিম দুলাল ছিলেন সাংবাদিক তৈরির কারিগর। অল্পআয়ু শামছুল করিম দুলাল ২ জুলাই রবিবার সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে ঢাকা গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ৪২ বছরে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে গ্রামের বাড়ি লাকসামের সিংজোড় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

লেখক: আজিম উল্যাহ হানিফ-সদস্য সচিব- সাংবাদিক শামছুল করিম দুলাল স্মৃতি সংসদ।

(9)

LaksamDotKom
By LaksamDotKom জুলাই ১১, ২০১৭ ১৫:৫৩
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Leave a Reply