বদলে যাচ্ছে রাজনীতির সংস্কৃতি! শক্তিশালী ও উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অনন্য দৃষ্টান্ত হবে ‘বাংলাদেশ’

LaksamDotKom
By LaksamDotKom ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ ১৭:০৬

বদলে যাচ্ছে রাজনীতির সংস্কৃতি! শক্তিশালী ও উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অনন্য দৃষ্টান্ত হবে ‘বাংলাদেশ’

ফারুক আল শারাহ : গত ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে যেমনি অনেক শঙ্কা ও উদ্বেগ ছিল, তেমনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু শঙ্কা ও উদ্বেগের মাঝেও শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের রক্তপাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের আগের দিন রাতে আমি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। তাতে লিখেছিলাম- ‘নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে মনে হচ্ছে- আপনারা কি মনে করেন?’ এরপর অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত মতামত জানিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষণের পরেই আমার কাছে যেসব কারণে এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার ধারণা করেছি তা হচ্ছে- প্রথমত. ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এ নির্বাচনকে টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমেই তারা বুঝতে চেয়েছেন বিগত প্রায় ৮ বছর ক্ষমতায় থেকে তাদের জনপ্রিয়তা কতটুকু অর্জিত হয়েছে? আর এ নির্বাচন থেকেই পরবর্তী নির্বাচনগুলোর গতিপ্রকৃতি কেমন হবে তা নির্ভর করবে। দ্বিতীয়ত. ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও বিএনপি প্রার্থীকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার নির্বাচনে ছিলনা দলের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী। কেন্দ্রের সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণের কারণে যারা বিদ্রোহ করতে পারেন তারাও ছিলেন নিরব। নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের সাথে আইভীর মনস্ত¡াত্বিক দূরত্ব থাকলেও কেন্দ্রের কঠোরতার কারণে আইভীর পক্ষেই জোরালে সমর্থন ব্যক্ত করেন শামীম ওসমান। আর একজন ক্লিন ইমেজধারী ও নারী প্রার্থী হিসেবেও আইভী ছিলেন আওয়ামীলীগের প্লাস পয়েন্ট। সবমিলিয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আইভীর বিজয়ী হওয়া অস্বাভাবিক ছিলনা। নারায়ানগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিজয়ী হলেও বিএনপি’র এখানে হারানোর কিছু নেই।

কারণ হিসেবে মনে করা যেতে পারে- বিএনপি’র প্রার্থী এড. সাখাওয়াতের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন ডা. আইভী। নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনে আইভী এক নামেই পরিচিত। গত ১৩ বছর ধরে জনগণের কাছের মানুষ তিনি। প্রথমে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা মেয়র এবং পরে সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ক্লিন ইমেজের নেত্রী ডা. আইভী। দুর্ণীতি কিংবা ক্ষমতা অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ ছিলনা তার বিরুদ্ধে। উন্নয়ন ও সুশাসনের পক্ষে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডা. আইভীর ছিল সুদৃঢ় অবস্থান। তাঁর পিতা নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত শ্রমিকনেতা আলী আহম্মদ চুনকাও ছিলেন সেখানকার একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এর আগের নির্বাচনে আইভী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান ও বিএনপি প্রার্থী এড. তৈমুর আলম খন্দকারকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। সব বিবেচনায় এবারও ডা. আইভী ভোট প্রাপ্তির বিচারে এগিয়ে থেকে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন থেকেও বিগত নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্ত এড. তৈমুর আলম খন্দকার ছিলেন রাজনীতিতে ত্যাগী ও জনপ্রিয় প্রার্থী। এড. সাখাওয়াত আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হলেও বিএনপি নেতা হিসেবে ততটা হেভিওয়েট নন। তাঁর ভরসা ছিল কেবল দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’। তিনি ‘ধানের শীষ’ এর কল্যাণেই এক লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন। বিগত নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের চরম বিভেদের সময়ও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার বিজয়ী হতে পারেনি। কিন্তু এবার আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বিজয় বিএনপি’র জন্য রাজনৈতিক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল বলে আমি মনে করিনা।

আমার মতে- ডা. সেলিনা হায়াত আইভী একজন সাহসী ও ভাগ্যবান নারী। বিগত নির্বাচনে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কতটুকু উন্নয়ন ত্বরান্বিত ও নাগরিক প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে তিনি সার্বিক কর্মকা-ের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ খ্যাত নারায়নগঞ্জবাসীর ললাট থেকে সন্ত্রাসের জনপদ উত্তোরণের মাধ্যমে ‘শান্তির জনপদ’ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নারায়ানগঞ্জের জনগণের ভাবনা ছিল- আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতাসীন। দীর্ঘদিন বিএনপি ক্ষমতা বাইরে। তাই বিএনপি’র প্রার্থী বিজয়ী হলেও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে ফাইট করে ‘শান্তির জনপদ’ প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। আর এ সচেতনার কারণে হিসাব কষেই নারায়নগঞ্জের ভোটাররা আইভীকে বেছে নিয়েছেন। উন্নয়ন, সুশাসনের জন্য তারা আইভীকেই যোগ্য মনে করে তার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

আমি টেলিভিশনে আইভী ও শাখাওয়াতের নির্বাচনী প্রচারের একাধিক বক্তব্য শুনেছি। বিএনপি ক্ষমতাসীন নয়। তাই বিএনপি’র প্রার্থী সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করাটা গতানুগতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আওয়ামীলীগের প্রার্থী আইভীও একাধিক সভা-সমাবেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। সরকার দল সমর্থিত দলের প্রার্থীর এমন করুণ আর্তনাদ আমার কাছে মনে হয়েছে চরম অসহায়ত্বের। আইভী হয়তো ভেবেছিলেন প্রতিপক্ষের কাছে না হারলেও তৃতীয় কোন শক্তির ষড়যন্ত্রের কাছে তিনি হেরে যেতে পারেন। তিনি ভেবেছিলেন ভোটাররাই তার বিজয়ের নিয়ামক শক্তি। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হলে জনগণ তার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটাবেন। শেষ পর্যন্ত আইভীর মনোবলেরই জয় হলো। তিনি প্রমাণ করলেন তার শান্তির ফর্মলা নারায়নগঞ্জবাসী গ্রহণ করেছে। নারায়নগঞ্জবাসী সাত খুন সহ নানা নোংরা রাজনীতির অপসংস্কৃতি থেকে মুক্তি চান। আর এ সংস্কৃতি থেকে নারায়নগঞ্জকে মুক্ত করতে আইভীকেই সাহসী যোদ্ধা মনে তাকে বিজয়ী করেছে নারায়নগঞ্জের ভোটাররা।

বিএনপি’র পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার দাবি করা হলেও সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি একটি খুব স্বাভাবিক ঘটনা। বিএনপি ক্ষমতাসীন থেকে আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকলে এটি আওয়ামীলীগেরও রাজনৈতিক বক্তব্য হতো- এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের মানুষ এমন সংস্কৃতি দেখে আসছে। এমন সংস্কৃতির মধ্যেও দেশবাসী এবার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখলো। আর এ দৃষ্টান্তের নায়িকা ডা. সেলিনা হায়াত আইভী নিজেই।

গত ২২ ডিসেম্বর বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার পর ডা. আইভী ফোন করে এড. সাখাওয়াতের সঙ্গে কথা বলেন। শুধু তাই নয়, পরদিন শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তিনি সদরের খানপুরে এড. সাখাওয়াত হোসেনের বাসায় মিষ্টি নিয়ে যান। প্রায় আধা-ঘণ্টা সেখানে সময় কাটান আইভী। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে সাখাওয়াতের সহযোগিতা চান আইভী। সাখাওয়াত আইভীকে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনের আগে আইভী অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি বিজয়ী হন কিংবা পরাজিত হন তিনি সাখাওয়াতের বাসায় যাবেন। তিনি তার কথা রেখেছেন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে যদি আইভী পরাজিতও হতেন তাতে হতাশ হতেন না আইভী। ঠিকই তিনি সাখাওয়াতের বাসায় গিয়ে তাকে অভিনন্দন জানাতেন। আইভীর দৃঢ়তা ও উদার মানসিকতা তাই প্রমাণ করে।

দ্বিতীয়ত, গত ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেশবাসীর নজরে এলো। সেদিন চিকিৎসাধীন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (পিজি) ৩০২নম্বর কেবিনে ফুল নিয়ে যান যান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পিজি হাসপাতালে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তিনি মান্নার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। স্মৃতিচারণ করেন পুরনো দিনের। এসময় বিএসএমএমইউ’র ভিসি কামরুল হাসানকে ফোন করে মাহমুদুর রহমান মান্নার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন কাদের। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন- দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। রাজনীতির বাইরেও একটা সম্পর্ক থাকে। গতকালই আসতে চেয়েছি, নির্বাচনের কারণে পারিনি। আজকে প্রোগ্রাম ছিল, শেষ করে চলে এসেছি। সেনাবিদ্রোহে উস্কানী ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় প্রায় ২২ মাস কারাগারে আটক থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হন মান্না। গত ২১ ডিসেম্বর নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

মাহমুদুর মান্না একসময় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন থাকলেও মনস্ত¡াত্বিক দূরত্বে তিনি দল থেকে বের হয়ে নাগরিক ঐক্য নামে আলাদা দল গঠন করেন। নতুন দল গঠনের পর টেলিভিশন টকশো সহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করেন। তিনি আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর বিরুদ্ধেও কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। এমন পারস্পর বিরোধী অবস্থানের পরও মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসপাতালে দেখতে যাওয়া উদার রাজনৈতিক দৃষ্টান্তই প্রস্ফুটিত হয়। যা বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তৃতীয়ত. দেশের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে সহজে অনুমেয়- বিএনপি এখন রাজনীতিতে অনেক ইতিবাচক ভূমিকায়। বিএনপি চেয়ারপারসন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন কমিশন গঠনে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী আওয়ামীলীগের সম্মেলনে এমপিদের স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আওয়ামীলীগের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরতে। পরবর্তী সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন হয়ে গণতন্ত্রের ভীত মজবুতের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা। গণতন্ত্রমনা এ দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ। সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলও চান শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ধারাবাহিকতা।

চতুর্থত. বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে না পারায় দেশের মানুষ নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ উত্তীর্ণের মাত্র দুই মাস আগে নারায়ানগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে- নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনভাবেই অসম্ভব নয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। তারা মনে করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মতো ভবিষ্যতে সকল নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি এক ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুকে স্ট্যাটাস আমার নজর কেঁড়েছে। তিনি লিখেছেন- আইভীর মতো ২’শ এমপি চান। এমন দাবি শুধু ওই ছাত্রলীগ নেতার নয়, দেশের আপামর জনতার। দেশের মানুষ দুর্ণীতি ও দুঃশাসন চায়না। চায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন। আমাদের সবার প্রত্যাশা বাংলাদেশ হোক অপার সম্ভাবনার দেশ। ওই ছাত্রলীগ নেতার সাথে আমি আরেকটু যোগ করে বলবো- আমরা আইভীর মতো ২’শ নয়, ৩’শ এমপি চাই। যারা ইতিবাচক রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হবেন।

আমরা আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক দল সমূহের দেশপ্রেম দেখিছি। গণতন্ত্রের প্রতি দেখেছি তাদের অবিচল আস্থা, বিশ্বাস ও দৃঢ়তা। স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের ক্ষমতার পালাবদল হয়। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানায়। বিজয়ী প্রার্থী সরকার পরিচালনায় পরাজিত প্রার্থীর সহযোগিতা কামনা করেন।

সদ্য আমেরিকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে হলেও নির্বাচনের রেশ এখনো কাটেনি। এ নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে। আমেরিকার পর হয়তো আমরা ব্রিটেন কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনেও এমন প্রেক্ষাপট দেখবো। কিন্তু বদলে যাচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বদলে যাচ্ছি আমরা। আমরা উদার ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের পথে হাঁটছি। আর তা থেকে পিছু হটছে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপ ইউনিয়নের মতো দেশ। নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমাদের সে পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। তাদের উদারতায় বিস্মিত জাতি। আমরা একটি অনন্য দেশের স্বপ্ন দেখছি। যে দেশে থাকবে না বিদ্বেষ, থাকবেনা হানাহানি। দুর্ণীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সবার অবস্থান হবে সুদৃঢ়। সরকার ও বিরোধী দল হবে পরস্পরের পরিপূরক। আর তবেই বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার সুফল অর্জিত হবে।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক
সময়ের দর্পণ, লাকসাম।

(43)

LaksamDotKom
By LaksamDotKom ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ ১৭:০৬
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Leave a Reply