|
আড়াই
ঘন্টার পতাকা বৈঠক ব্যর্থ: বিজিবি সদস্য কে ফেরত দেয়নি বিএসএফ
আরেফিন রোমেল, কুমিল্লা (শুক্রবার
২০ জানুয়ারি ২০১২, ৭ মাঘ ১৪১৮, ২৫ সফর ১৪৩৩):- শুক্রবার সকালে
বাংলাদেশ সীমান্তের কুমিলস্না সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা
ইউনিয়নের দলকিয়া গ্রামে ভারতীয় মাদক চোরাকারবারী ও বিজিবি
সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিএসফের হাতে আটক বিজিবি সদস্য
হাবিলদার লুৎফুর রহমানকে ফেরত দেয়নি ভারত। আড়াই ঘন্টা ব্যাপী
বৈঠকে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো বাংলাদেশ ও ভারতের
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যকার পতাকা বৈঠক।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটায় সদর দক্ষিণ উপজেলার
দলকিয়ায় বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারীদের সাথে সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় ভারতীয়রা ধরে নিয়ে যায় বিজিবির হাবিলদার লুৎফুর রহমান।
তাকে ফেরত নেয়ার জন্য বিএসএফ’র অধিনায়ক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের
সঙ্গে বৈঠক করে বিজিবি। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল
৩টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই
শেষ হয়। সীমান্তের ২০৮৮ নং মেইন পিলারের কাছে অনুষ্ঠিত পতাকা
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্বদেন ৩৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আক্তারুজ্জামান বীরপ্রতীক ও
বিএসএফ’র পক্ষে নেতৃত্বদেন বিএসএফ ২৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট
অফিসার এ.কে ইমব্রম।
এছাড়াও বিজিবির পক্ষে ৩৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক
মেজর রুপায়ন বড়ুয়া, মেজর ইশতেয়াক আহমেদ এবং বিএসএফ ২৯
ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডার অনীল কুমার, সিপাইজলা জেলার
পুলিশ সুপার স্মৃতিরঞ্জন দাস অংশ নেন। পতাকা বৈঠক শেষে ৩৩
বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল
আক্তারুজ্জামান বীরপ্রতীক সাংবাদিকদের জানান, কোনো সিদ্ধান্ত
হয়নি। শনিবার এ নিয়ে আবারো পতাকা বৈঠক হবে। তিনি বৈঠকে আলোচনার
বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
৩৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের মেজর ইশতেয়াক আহমেদ জানান,
শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটায় বাংলাদেশ সীমান্তে কুমিলস্নার সদর
দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের দলকিয়া গ্রামে ভারতীয় পেশাদার
মাদকব্যবসায়ী শাহ আলমের নেতৃত্বে বাংলাদেশে ফেনসিডিল পাচারের
সময় বিজিবি বৌয়ারা বিওপির চার সদস্যের একটি টহল দল তাদের ধাওয়া
করে। চোরাকারবারীরা এক কার্টন ফেনসিডিল ফেলে পালিয়ে যায়। বিজিবি
সদস্যরা ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ কার্টুনটি উদ্ধার করে ফিরে আসার
সময় পেছন থেকে মাদক চোরাকারবারীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ বিজিবি
সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তারা বৌয়ারা বাজার বিওপির কমান্ডার
হাবিলদার লুৎফুর রহমানের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
এসময় বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে
ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরার সিপাইজলা জেলার সোনামুড়া থানার
তারাপুকুর গ্রামের আবতার আলীর ছেলে শাহ আলম গুরুতর আহত হন। পরে
হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় মাদকব্যবসায়ী ও
তারাপুকুর গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে
হাবিলদার লুৎফর রহমানকে মারধর করে নিয়ে যায়। পরে বিএসএফ তাকে
তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সীমান্তের ওই এলাকায় উত্তেজনা
বিরাজ করছে। |