|
কুমিল্লা
সিটি করপোরেশন নির্বাচনঃ প্রথম নগরপিতা সাক্কু
ফারুক আল
শারাহ, কুমিল্লা (শুক্রবার ৬ জানুয়ারি ২০১২, ২৩ পৌষ ১৪১৮, ১২
সফর ১৪৩৩):- অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কুমিল্লা সিটি
করপোরেশন নির্বাচনের অনুষ্ঠিতের মাধ্যমে সকল জল্পনা-কল্পনার
অবসান হয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার
পর এ প্রথম নির্বাচিত নগরপিতা হলেন সদ্য বিএনপি থেকে অব্যাহতি
নেয়া মনিরুল হক সাক্কু। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মিডিয়াকে
দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের সাথে নিয়ে
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে কাজ করার অভিব্যক্তি ব্যক্ত
করেছেন।
প্রচন্ড শীত আর কুয়াশাকে উপেক্ষা করে সকাল ৮টায় কুমিল্লা সিটি
করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণের শুরুতেই
মেয়র পদে ৮ প্রতিদ্বন্দ্বি স্ব-স্ব কেন্দ্রে তাদের ভোট দেন।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিয়ে না উৎকন্ঠা থাকলেও
শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত।
দেশের প্রথম কোথাও সকল কেন্দ্রে ইভিএম প্রক্রিয়ায় এবারই
ভোটগ্রহণ অনুষ্টিত হয়। এ কারণে কুমিল্লার এ নির্বাচন দেশের
জন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হলো। ইভিএমে বয়স্ক ও নিরক্ষররা
কিছুটা অসুবিধায় পড়লেও সিংহভাগই সংকোচহীনভাবে ভোট দিয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে
জানা যায় সদ্য বিএনপি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নাগরিক কমিটির
প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৪০ ভোট।
প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজাল খান
এডভোকেট পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৪২১ ভোট।
সূত্র মতে- বিগত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বক্ষেত্রে দলীয়
ঐক্যে কুমিল্লা সদর আসনে সংসদ সদস্য পদে আওয়ামীলীগ চমক দেখালেও
সামান্য সময়ের ব্যবধানে দলে পুরনো কোন্দল নতুনরূপে রূপ নেয়।
ত্রি-ধারায় বিভক্ত হয় জেলা আওয়ামীলীগ। মহাজোটে বিরাজ করে
সমন্বয়হীনতা। আর এ সমন্বয়হীনতার কারণেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে
মহাজোটের ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একে অন্যের বিরুদ্ধে
বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। আওয়ামীগের একক মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ
আফজাল খানের পক্ষে জেলার ৮ এম.পি প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনী
প্রচারণা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বিজয়ী করা যায়নি। অপরদিকে
ফেইসয়েবলদের মধ্যে শুধুমাত্র কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর নাগরিক
কমিটির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে প্রচারণা চালালেও শেষ
পর্যন্ত তিনি (সাক্কু) বিজয় নিশ্চিত হয়। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে
এ নির্বাচন বর্জন করলেও দলের নেতা-কর্মীরা স্থানীয়ভাবে
আওয়ামীলীগের উপর কর্তৃত্ব প্রদানে ছিল পুরোপুরি নারাজ। আর ভোট
বিপ্লবের মাধ্যমে এর প্রতিফলন ঘটিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী
তা প্রমাণ করতে পেরেছে।
|