|
কুসিক
নির্বাচন আজ! একদিকে মুক্তিযোদ্ধা অন্যদিকে রাজাকারের সন্তান
বিশেষ
প্রতিনিধি, কুমিল্লা (বুধবার ৪ জানুয়ারি ২০১২, ২১ পৌষ ১৪১৮, ১০
সফর ১৪৩৩):- অপেক্ষার পালা শেষ। নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো
কুমিল্রা মহানগরী। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম বারের মতো
অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুমিল্রা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন।
সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা নয় ঘন্টা ভোটগ্রহণ
চলবে। এর পর পরই ফল ঘোষণার পালা। ভোট কেন্দ্র করে ভোটারসহ
প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই। জয়ের ব্যাপারে
আশাবাদী প্রার্থীদের সবাই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা
প্রকাশও করেছেন নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী সাক্কু। এদিকে
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি চূড়ান্ত।
মাঠে থাকছে প্রায় চার হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
সদস্যসহ ২৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। কুসিক নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ৮৬
হাজার মহিলা ভোটাররাই বড় ফ্যাক্টর।
তাঁদের
ভোটেই বদলে যেতে পারে পুরো নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ। পুরুষ
ভোটারের সংখ্যা ৮৩ হাজার। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী আট জন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ কুমিল্লা মহানগরীতে সরকারীভাবে
সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে
বুধবার সনধ্যা পর্যন্ত কালো টাকা বিতরণ, আচরণবিধি লঙ্ঘনের
অভিযোগে দুই ভুয়া সাংবাদিকসহ সাত জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রায় দেড়’শ বছরের পুরনো এই পৌরসভায়
যারাই বিগত দিনে পৌর পিতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কেউই
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে
বিজয়ী মেয়র প্রার্থীর প্রতি প্রত্যাশার শেষ নেই। সাধারণ
মানুষের বক্তব্য মেয়র হিসেবে যে-ই নির্বাচিত হোক নগরীর
জলাবদ্ধতা, সন্ত্রাস, মাদক, চোরাচালান, যানজট অপরিকল্পিত আবাসন
সমস্যার সমাধান করে কুমিল্লাকে একটি আধুনিক শহরে রূপ দেবেন।
কাজ করবেন জনস্বার্থে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কমবে রাজনৈতিক প্রভাব।
নির্বাচনে
আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খান একজন
মুক্তিযোদ্ধা। অন্যদিকে বিএনপির বহিষকৃত নেতা ও নাগরিক কমিটির
প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু পরীক্ষিত রাজাকারের ছেলে। কুসিক
নির্বাচনে তারা দু’জনেই হেভিওয়েট প্রার্থী। মুক্তিযোদ্ধা ও
রাজাকার প্রশ্নে ভোটাররা নগরপিতা হিসেবে কাকে বেছে নেবেন? এ
প্রশ্ন এখন সবার। ফল যাই হোক এই প্রেক্ষাপটে আজকের নির্বাচনকে
মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের সন্তানের মধ্যে মর্যাদার লড়াই
হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
স্থানীয়
মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় যে, ’৭১-এর
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বর্তমান মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক
সাক্কুর বাবা মোঃ সাজেদুল হক মোক্তার ও কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের
পিতা আলী আকবর এ্যাডভোকেট পাক হানাদারদের পক্ষে অংশগ্রহণ করে
রাজাকারের ভূমিকায় দেশের বিপক্ষে কাজ করেন। ওই সময়ে উভয়ে পাক
হানাদার বাহিনীর সামরিক অফিসার ক্যাপ্টেন বুখারীকে কুমিল্লার
কৃতী সন্তান ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত, যতীন্দ ভদ্র, অতীন্দ্র ভদ্র,
প্রসন্ন কুমার ভৌমিক, নিতাই সাহা, কেডি রায়, শিশিরেন্দ্র
দাশগুপ্ত রানার বাড়ি চিনিয়ে দেয়। পরে তাদের সহযোগিতায় পাক
হানাদার বাহিনী তাদের হত্যা করে। এ ঘটনায় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর
সাক্কুর বাবা ও মৃত মোহামমদ মিয়ার ছেলে মোঃ সাজেদুল হক
মোক্তারের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মহকুমার সাব ডিভিশনাল
অফিসার বাদী হয়ে ১৯৭২ সালের ৯ মে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় মামলা
দায়ের করেন। মামলা নং-২৬, জি আর নং- ৬০১/৭২। স্বাধীনতা যুদ্ধে
পাক সেনাদের নরহত্যায় সহযোগিতা করার অপরাধে ১৯৭২ সালে গঠিত
কোলাবোরেট এ্যাক্টেও অধীনে গঠিত সেপশাল ট্রাইব্যুনালও তার
বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-১৬/৭৩।
এদিকে একই
অপরাধে সাজেদুল হক মোক্তারের সহযোগী ও কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের
বাবা আলী আকবর এ্যাডভোকেটের বিরদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ
মহুকমার সাব ডিভিশনাল অফিসার বাদী হয়ে জেলার চৌদ্দগ্রাম থানায়
মামলা করেন। যার মামলা নং ০৮/৭২। তার বিরুদ্ধে সেপশাল
ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-১২১/৭২। ওই মামলায় তাদের উভয়কে গ্রেফতার
করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরে ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর
জিয়াউর রহমানের এক সামরিক ফরমানে কোলাবোরেট এ্যাক্ট অর্থাৎ
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিল করে দিলে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে
আসে।
একজন বীর
মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী
আফজল খানের। তবে তাঁর বিরুদ্ধে শংকর হত্যা, দুর্নীতিসহ পাঁচটি
মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলা বিচারধীন। এদিকে ২০১০ সালের
১০ অক্টোবর জেলা যুবদলের সমেমলনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার
কান্দিরপাড়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় লিপ্ত হয় জেলা বিএনপির
বিবদমান ইয়াছিন ও সাক্কু গ্রুপ। ওই ঘটনায় সাক্কু গ্রুপের
অভিযুক্ত অধিকাংশ আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও অস্ত্র উদ্ধারের
বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ওই অস্ত্রের মহড়ায় এখনও
শঙ্কিত কুমিল্লাবাসী। নির্বাচনের পূর্বে পুলিশের সাঁড়াশি
অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের
পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায় আতঙ্কে রয়েছে নগরবাসী।
নির্বাচনের দিন নাশকতার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
সূত্র আরও
জানায়, জোট সরকারের আমলে সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব)
প্রয়াত আকবর হোসেনের সেকেন্ড ইন কমান্ড মনিরুল হক সাক্কু
কুমিল্লায় গড়ে তোলেন বিশাল ক্যাডার বাহিনী। ক্ষমতায় আসার পর
একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেই কুমিল্লা পৌর সভার মেয়র পদে
আসীন হন, হয়ে যান পৌরপিতা। ওই মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় একক আধিপাত্য
বিস্তার করে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে।
২০০৬ সালে আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর সংসদ নির্বাচনে
প্রতিদ্বন্দিতা করতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ
করেন। একই আকবরপুত্র সায়মনও নির্বাচন করার লক্ষ্যে পাল্টা
প্রচার চালাতে থাকে। দুজনের ওই দ্বন্দের জের ধরে আবির্ভাব ঘটে
বিএনপির তৃতীয় শক্তির। গঠিত হয় রাবেয়া-ইয়াছিন কমিটি।
এদিকে
দেশের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ও রাগব বোয়ালদের ধরতে ওয়ান ইলেভেনের
সময় তৎকালীন ফখরুদ্দীন-মঈন সরকারের আমলে একটি তালিকা প্রণয়ন করা
হয়। ওই তালিকায় শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের ৫০ জনের তালিকায় নাম ওঠে
মনিরুল হক সাক্কু। ওই সময়ে তাকে আটক করতে যৌথবাহিনী তার বাসায়
বেশ কয়েকবার হানা দিলেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। যৌথবাহিনীর
অভিযানের খবর পেয়ে গ্রেফতার এড়াতে দেড় বছর আত্মগোপনে থাকে। নবম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাকে দেখা যায়নি। পরে মহাজোট সরকার
ক্ষমতায় আসার পর কুমিল্লা পৌরসভার আবারও হাল ধরেন সাক্কু। পুরনো
স্মৃতিকে মুছে ফেলতে অনেকটা কৌশলী হয়ে কুমিল্লার ব্যাপক উন্নয়ন
করেন। এদিকে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে যুবদলের সমেমলনে
অস্ত্রবাজির ঘটনায় কুমিল্লাসহ সারাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচনার
কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে সাক্কু-ইয়াছিনের ক্যাডারদের
তাণ্ডবলীলার খবর। এ ঘটনায় পর পর র্যাব-পুলিশসহ গোয়েন্দাসংস্থার
সদস্যরা অভিযান চালিয়ে আটক করে সাক্কু বাহিনীর একাধিক ক্যাডার।
অস্ত্রবাজির এ ঘটনায় প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও অস্ত্র উদ্ধার
করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।
মেয়র পদে
ক্ষমতাসীন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খান বলেন, জোট
সরকারের আমলে তাদের আকবর ভাইদের নিয়ে দুর্নীতি ও লুটপাট করে
কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। এখন ওই লুটপাটের পয়সা দিয়েই রাঁতের
আধারে ভোটারদের মাঝে কালো টাকা বিতরণ করছে। তিনি বলেন,
কুমিল্লার মানুষ জানে কারা কান্দিরপাড়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছিল।
প্রশাসনও জানে কাদের নিকট অস্ত্র আছে।
র্যাব-১১
কুমিল্লা জোনের প্রধান মোস্তফা কামাল জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের
জন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা প্রতিটি
নির্বাচনী কেন্দ্র মনিটরিং করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,
গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব এ্যাকশনে যাবে। তাছাড়া
কোথাও কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা তা জানতে প্রতি ওয়ার্ডে দায়িত্বে
থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।
পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাও ফলো করবে র্যাব। এক
প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নির্বাচনোত্তর সহিংসতা রোধে
প্রস্তুত র্যাব। কোন আশঙ্কা ছাড়াই তিনি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে
গিয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মোখলেছুর
রহমান জানান, কেউ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে
কঠোর হাতে দমন করা হবে। অন্যায়ের সঙ্গে কোন আপোস করা হবে না।
নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত বলেও জানান তিনি।
এদিকে
নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেয়র প্রার্থী মনিরুল
হক সাক্কু। বুধবার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সমেমলনে তিনি
আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খানের বিরুদ্ধে
নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, ’নির্বাচন কমিশনের
কর্মকান্ডে আমি সন্তুষ্ট নই’। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জেলা
প্রশাসনসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান বিএনপি থেকে
বহিষকৃত নাগরিক কমিটির এই মেয়র প্রার্থী।
আফজল
খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী এজেণ্টদের হুমকির অভিযোগ এনে সাক্কু
বলেন, বিগত তিন দিন ধরেই তাঁর নির্বাচনী এজেণ্টদের হুমকি দেয়া
হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে কয়েকদফা লিখিত অভিযোগ
দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মঙ্গলবার নগরীর সালমানপুরে
ভোটারদের টাকা দেয়ার সময় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি নিজের সমর্থক
নয় এমন দাবি করে তিনি বলেন, আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। তবে এ
ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমাকে একটি চিঠি দেয়া
হয়েছে। তার এমন বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শেষ হওয়ার পর প্রেস কনফারেন্স করাও
আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে কিনা। জবাবে সাক্কু বলেন, বিষয়টি
আমার জানা নেই। তবে আমি মনে করি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বললে আচরণ
বিধি লঙ্ঘন হয় না।
চিহ্নিত
সন্ত্রাসী দিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হুমকির অভিযোগ এনে সাক্কু
বলেন, কেউ নির্বাচনে বিরূপ পরিস্থিতির চেষ্টা করলে তা বহুদূর
গড়াবে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী এনে কেন্দ্র দখল,
ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাঁধাসহ হুমকির অভিযোগ এনে সাবেক
মেয়র সাক্কু সুষ্ঠু নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অবাধ,
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে তিনি
নির্বাচন থেকে সড়ে না দাঁড়ানোরও ঘোষণা দেন। নির্বাচনে ভোটাররা
সুষ্ঠু ভাবে ভোট দিতে না পারলে পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচন বয়কট
করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তবে জনগণ ভোট দিতে পারলে জয়ের
ব্যাপারে তিনি আশাবাদী শতভাগ। সুষ্ঠু নির্বাচনে জয় পরাজয় যাই
হোক তা মেনে নেয়ার কথা সংবাদ সমেমলনে জানান তিনি।
অপর এক
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’আমার দল বিএনপি ইলেকট্রনিক ভোটিং
মেশিনের বিরোধিতা করে আসছে বলেই আমিও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
নির্বাচনে ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছি। হাঁস প্রতীকে নির্বাচন
করছেন সাক্কু। তিনি বলেন, ’ইভিএময়ে হাঁসে ভোট দিলে আনারসে চলে
যেতে পারে’। তবে ভোট কারচুপি হলে জনগণ তা দেখবে। তিনি বলেন,
অপরাধীদের ধরতে কোন বাঁধা নেই। আমার কর্মী সমর্থকরা অপরাধ
করলেও তাঁর বিচার চাই। তিনি পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে
প্রশ্ন তুলে বলেন, পর্যবেক্ষকরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে কাজ
করছে। সংবাদ সমেমলনে উপস্থিত ছিলেন, সাক্কুর হেড অব মিডিয়া
কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর, বিএনপি নেতা আবদুর রব চৌধুরী ফারুক।
এদিকে
মেয়র প্রার্থী আফজল খান বলেন, প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে অনেক আগে
থেকেই নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এখন তারা নির্বাচন কমিশনের
কর্মকা- নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এসব করে কোন কাজ হবে না। সাক্কুর
বাবা কবর থেকে উঠে এলেও নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য
করেন তিনি। তিনি বলেন, সারা জীবন কুমিল্লাবাসীর খেদমত করে আসছি।
মেয়র পদে নির্বাচিত হলে কুমিল্লা শহরকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী
শহরে রূপান্তর করব।
ভোটের দিন
অধ্যক্ষ আফজল খান ভোট দেবেন কুমিল্লা মর্ডান স্কুল কেন্দ্রে।
মনিরুল হক সাক্কু ভোট দেবেন হোচ্ছামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে,
এয়ার আহমেদ সেলিম ভোট দেবেন ইসলামিয়া আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিনে অনুষ্ঠিত হতে
যাচ্ছে কুসিক নির্বাচন। এ নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই ব্যবহার করা
হবে ইভিএম। তবে ইভিএম পদ্ধতির ভোট নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় ভোটাররা।
প্রযুক্তির কারসাজিতে নিজের মূল্যবান ভোটটি পছন্দের প্রার্থীর
পক্ষে না পড়ার আশঙ্কা তাদের। নির্বাচন কমিশনের নমুনা ভোটিং
প্রশিক্ষণ সভা সেমিনার প্রচার কোন কিছুতেই আস্থা পাচ্ছে না তারা।
তাদের অভিযোগ ফলাফল বানচাল করার অসত উদ্দেশ্যে এই পদ্ধতি চালু
করা হয়েছে। কারণ এতে যে কোন ভোটারের ভোটটি তার পছন্দের
প্রার্থীর পক্ষে পড়ল কিনা তা দেখা বা জানার সুযোগ নেই। পাশাপাশি
ইভিএম সম্পর্কে জানেন না ভোটারদের অনেকে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি
২৭ ওয়ার্ডে ভোটারদের মধ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও হলেও এতে
বাদ পড়েন অনেকে।
সরেজমিন
শহরের মফিজাবাদ কলোনি, কাশারীপট্টি, গদার মার কলোনি ঘুরে ইভিএম
নিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে ইভিএম সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাওয়া
গেছে। তাদের প্রত্যাশা যা হওয়ার হয়েছে। নিজের পছন্দের
প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা তাদের সহযোগিতা করবেন।
তারা বলেন, আমরা দেখতে এবং জানতে পারি কে কাকে ভোট দিলাম।
আমাদের অনধকারে রেখে ভোট নেয়ার উদ্দেশ্য অবশ্যই ভাল হতে পারে
না। কুমিল্লা শহরের সবচেয়ে অবহেলিত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একটি
মফিজাবাদ কলোনি। এই কলোনির ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭শ’।
নির্বাচন ছাড়া এই কলোনিবাসীর খোঁজ কেউ নেয় না এমন অভিযোগ
এখানকার বাসিন্দাদের। তবু তারা মনের টানে ভোট দেন, কেন্দ্রে
যান এমন মন্তব্য করেন গৃহিণী কাকলী বেগম, শিল্পী আক্তার, সালেহা
বেগমসহ অনেকেই।
|