|
বহু
প্রত্যাশিত কুমিল্লা সিটি নির্বাচন আজ: কে হবেন নগর পিতা
আরেফীন
রুমেল, কুমিল্লা (বৃহষ্পতিবার ৫ জানুয়ারি ২০১২, ২২ পৌষ ১৪১৮,
১১ সফর ১৪৩৩):- আজ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ কুমিল্লার জনতার রায়ের দিকে তাকিয়ে
আছে সমগ্র বাংলাদেশ। ভোটগ্রহণ শুরুহবে সকাল ৮টায়, শেষ হবে
বিকাল ৪ টায়। কে হবেন কুমিল্লার প্রথম নগর পিতা? এ নিয়ে
উৎকন্ঠার শেষ নেই। আ’লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ
অ্যাড.আফজল খান, মেয়র প্রার্থী বিএনপির অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা
মনিরুল হক সাক্কু ও জাতীয় পার্টি নেতা এয়ার আহমেদ সেলিম যেমন
আশাবাদি তেমনি আশাবাদি আলোচনায় থাকা নবীন দুই আ’লীগের বিদ্রোহী
প্রার্থী নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম ও আনিছুর রহমান মিঠু।
সারাদেশের নজর এখন কুমিল্লার দিকে। শতভাগ ইভিএম পদ্ধতিতে
ভোটগ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে।
কুসিক নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিন ছিল ৩ জানুয়ারি । আজ
নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা নগরীতে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনার
পাশাপাশি উৎসবের আমেজ। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে
প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্রধারীরা নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে অস্ত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে রিটার্নিং
অফিসার মো. আবদুল বাতেন বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা
বৈধ অস্ত্র জমা দেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৬৫টি ভোট কেন্দ্রের সবগুলোতেই
থাকবে সিসি ক্যামেরা। সিসি ক্যামেরাগুলো কুমিল্লার টাউন হলে
অবস্থিত মূল কেন্দ্রসহ সরাসরি ঢাকায় নির্বাচন কমিশন অফিসের
সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ভোট কেন্দ্রের ভেতরের অবস্থান জানতে থাকবে
১ হাজার ওয়েভ ক্যামেরা। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকবে ৮’শ
র্যাব সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ১৫০ সদস্য।
এছাড়াও থাকবেন ২ হাজার ২’শ পুলিশ ও ১৫০ বিজিবি সদস্য। রিটার্নিং
অফিসার মো. আবদুল বাতেন জানান, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের
জন্য পুলিশের অতিরিক্ত ৫০ জনের একটি দল থাকবে। তারা রিটার্নিং
অফিসারের কার্যালয়ে অবস্থান করবেন। কোথাও অনিয়ম হলে অথবা
অতিরিক্ত পুলিশ ব্যবহারের পরিস্থিতি হলে এখান থেকে তারা
অ্যাকশন নেবেন। ইসি সূত্র জানায়, ৩ জানুয়ারি থেকে ৬ জানুয়ারি
পর্যন্ত মোট ৪ দিন র্যাব ও পুলিশের টিম সক্রিয় থাকবে সিটি
করপোরেশন এলাকায়। ২৭টি ওয়ার্ডে র্যাবের ৮ সদস্যের ২৭টি মোবাইল
টিম কাজ করবে। ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং
প্রতি ৩টি ওয়ার্ডে ১ জন করে ২৭ ওয়ার্ডে ৯ জন নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

এছাড়া
প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচন কমিশনের একজন করে গোপন কর্মকর্তা
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবেন। কোথাও কোনও অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক
এর ব্যবস্থা নেবেন তারা। প্রতি ৩টি কেন্দ্রের জন্য ১টি করে
পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে একজন
এস.আইয়ের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি করে অ্যাকশন টিম থাকবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন করে
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবেন। কুসিক নির্বাচনে
মোট কেন্দ্র ৬৫টি। এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন
৬৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার। এছাড়া ৪৪১টি বুথে ৪৪১ জন সহকারী
প্রিজাইডিং অফিসার থাকবেন। পুলিং অফিসার থাকবেন ৮শ ৪২ জন।
অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৫১। ৪৪১টি ভোট কক্ষের জন্য ৪৪১টি
ইভিএম মেশিনের প্রয়োজন হলেও গত ৩ জানুয়ারি কুমিল্লায় এসেছে
৫২০টি।

ভোটকক্ষের
চাইতে অতিরিক্ত ইভিএম মেশিন এসেছে ৭৯টি। কোথাও কোনও ইভিএম
মেশিন বিকল বা কোনও সমস্যা দেখা দিলে অতিরিক্ত মেশিনগুলো
ব্যবহার করা হবে। কুসিক এলাকার বাসিন্দা, ভোটার কিংবা নির্বাচন
সংশিষ্ট কোন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ অবস্থান করলে আইনগত ব্যবস্থা
নেয়া হবে। ১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা পৌরসভা ও ২০০৫ সালে
প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা নিয়ে ২০১১ সালের ১০
জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। এটি দেশেন অষ্টম সিটি
করপোরেশন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠিত হবার পর গত ২২ নভের
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক
বরাদ্দ দেয়া হয় ১৫ ডিসের। ৫২ দশমিক ০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ
সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৭৯ জন। তাদের মধ্যে
পুরুষ ৮৩ হাজার ২০১ জন এবং মহিলা ৮৬ হজার ৭৮ জন। নির্বাচনে
মেয়র পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও ২ জন প্রার্থিতা
প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে মেয়র প্রার্থী ৭ জন। তাদের মধ্যে ৫
জন আলোচনায় আছেন। ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের ২১৭ জন কাউন্সিলর
প্রার্থী ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৬৯ জন প্রার্থী
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
|