|
কুমিল্লা
সিটি নির্বাচন! সব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারে ইসির প্রস্তুতি
প্রায় শেষ
বিডিএনএন২৪,
ঢাকা ( শুক্রবার ৯ ডিসেম্বর ২০১১, ২৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮, ১৩ মহরম
১৪৩৩):- নির্বাচন কমিশন (ইসি) কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)
নির্বাচনে ইলেকট্রনিক উপায়ে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি প্রায়
সম্পন্ন করেছে । এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রে
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে । নবগঠিত এ
সিটি করপোরেশনে আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসি
সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় সাধারণ ওয়ার্ড ২৭টি আর সংরক্ষিত
ওয়ার্ড নয়টি। মোট ভোটারসংখ্যা ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৭৩ জন। এর মধ্যে
পুরুষ ৮৩ হাজার ১৯৯ জন এবং মহিলা ৮৬ হাজার ৭৪ জন। এখানে
ভোটকেন্দ্র ৬৫টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৪২১টি। ৪২১ কক্ষেই ইভিএম
ব্যবহার করা হবে। নির্ধারিত ইভিএমের পাশাপাশি প্রত্যেক
ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত একটি করে ইভিএম থাকবে। এছাড়া ৯ জন সহকারী
রিটার্নিং অফিসারের প্রত্যেকের কাছে অতিরিক্ত তিনটি করে ইভিএম
থাকবে। সব মিলিয়ে মোট ৫১৩টি ইভিএম কুমিল্লায় যাবে। ইভিএমগুলো
ইতোমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে এই
মেশিনগুলো তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। জাতীয়
রাজস্ব খাতের অর্থায়নে এ খরচ মেটানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, আগামী ১৪ ডিসেম্বর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত ও
প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে
প্রার্থীদের উপস্থিতিতেই প্রার্থীর নাম ও প্রতীক সফটওয়্যারের
মাধ্যমে মেশিনগুলোতে স্থাপন করা হবে। প্রার্থীদের ইভিএম
সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কোর্স করানো হবে। কুমিল্লায় প্রতিদিন
তিনটি সপটে ইভিএম ব্যবহারের প্রদর্শনী চলছে। নির্বাচনের তিন
চারদিন পূর্বে ২২টি মেশিনের সাহায্যে প্রতিদিন ২২টি করে ভোট
কেন্দ্রে ভোটারদের মকভোটিং(ভোট দানের মহড়া) করানো হবে।
নির্বাচনে ব্যবহার করতে মেশিনগুলো নির্বাচনের দুদিন আগে
কুমিল্লায় যাবে।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো:
ফরহাদ হোসেন বলেন, কুসিক নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য
যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। শুধু প্রার্থী
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর বুয়েট থেকে চূড়ান্ত সফটওয়্যার লোড করা
হবে। বর্তমানে কুমিল্লায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। সাধারণ
মানুষের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে ব্যবহৃত মেশিন যাবে কুমিল্লায়: নারায়ণগঞ্জ সিটি
করপোরেশন নির্বাচনে ব্যবহার করা মেশিনগুলো কুসিক নির্বাচনেও
ব্যবহার করা হবে। ইসি কর্মকর্তা মো: ফরহাদ হোসেন বলেন,
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ব্যবহৃত ইভিএমগুলো নিয়ে কোনো বিতর্ক
হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী যদি কোনো নির্বাচনের ভোটিং মেশিন নিয়ে
নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা না হয় তাহলে ঐ নির্বাচনের মেশিন
পরবর্তী কোনো নির্বাচনে ব্যবহার করতে সমস্যা নেই।
প্রথমবারের মতো ইভিএম ব্যবহার: ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ
নির্বাচনের পর ইভিএম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন কমিশন
ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসে।
সংলাপে অংশ নেয়া ৩০টি দলের মধ্যে এলডিপি ছাড়া সবাই ইভিএম
ব্যবহারের পক্ষে মত দেয়। তবে দলগুলো স্বল্প পরিসরে পরীক্ষার পর
বৃহৎ পরিসরে ব্যবহারের কথা বলে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই
সংলাপে অংশ নেয়নি। গত বছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)
নির্বাচনে দেশে প্রথমবারের মতো ইভিএম ব্যবহার করা হয় । ওই
নির্বাচনে নয়টি ওয়ার্ডের ৭৯টি ভোটকক্ষে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডের ৪৫০ ভোট
কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। কুসিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো
সব ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।
ইভিএম নিয়ে বিতর্ক: বিএনপি শুরুতে কুসিক নির্বাচনে শতভাগ ইভিএম
ব্যবহারের বিরোধিতা করে এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ইভিএম
ব্যবহার না করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়। পরে
দলীয়ভাবে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করার জন্য একটি ইভিএম চেয়ে
নির্বাচন কমিশনকে আরেকটি চিঠি দেয় বিএনপি। এর জবাবে কমিশন
বিএনপিকে জানায়, কমিশনের কারিগরি দলের উপস্থিতিতে বিএনপির
প্রতিনিধিদল ইভিএম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে। তবে এজন্য
বিএনপির কারিগরি দলকে কমিশন সচিবালয়ে আসতে হবে।
|