|
জমে উঠছে
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন!
বিডিএনএন২৪,
কুমিল্লা ( শুক্রবার ৯ ডিসেম্বর ২০১১, ২৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮, ১৩
মহরম ১৪৩৩):- আ’লীগ-বিএনপির দু’সভানেত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের
নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনতে পারছে না দলীয় হাইকমান্ড। বিএনপির
চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দু’দফায় বৈঠক শেষে কুসিক নির্বাচন
বর্জনের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছলেও নির্বাচনে ’জয়ের নেশায়’ দলীয়
হাইকামান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করেই প্রার্থী হয়ে মাঠে ভোট
যুদ্ধে রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র
মনিরুল হক সাক্কু। অপরদিকে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠ চষে
বেড়াচ্ছেন দলের দু’ সাবেক ছাত্র নেতা নূর-উর রহমান মাহমুদ
তানিম ও আনিসুর রহমান মিঠু। তাই নাটকীয় কোন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
না ঘটলে আগামী ১৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে
ওই ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠ থেকে নাও সরে দাঁড়াতে পারেন
বলে জানা গেছে। তাই শেষ পর্যন্ত কোন সমঝোতা না হলে ১৪
ডিসেম্বরের পর ওই বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষকারের
চিন্তা-ভাবনা চলছে বলেও উভয় দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাদের
সূত্রে জানা গেছে। এদিকে প্রতীক বরাদ্দ না হওয়া এবং বিএনপি
নির্বাচনী মাঠে না থাকায় কুসিক নির্বাচনে উত্তাপ না থাকলেও
প্রার্থীদের নীরব প্রচার ও গণসংযোগে ক্রমেই সরব হচ্ছে কুসিক
এলাকা।
জানা যায়
ইভিএম বাতিল এবং সেনা মোতায়েন করার দাবিতে গত ১৫ ও ২৩ নবেম্বর
গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ইভিএম
বাতিল ও সেনা মোতায়েন না করলে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার বিষয়ে
যখন সিদ্ধান্ত জেলা নেতৃবৃন্দকে জানানো হয় তখন এতে বিএনপির
সমর্থনপ্রাপ্ত মেয়র প্রার্থী হাজী ইয়াছিন ও সাবেক পৌর মেয়র,
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কু উপস্থিত
ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে হাজী ইয়াসিন নির্বাচন বর্জন করলেও
মনিরুল হক সাক্কু দলীয় চেয়ারপার্সনের নির্দেশ উপক্ষো করেই
কুমিল্লা নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে
দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভানেত্রী বেগম
রাবেয়া চৌধুরী জানান, দলের চেয়ারপার্সনের নিকট নির্বাচন বর্জন
করে আন্দোলনের ওয়াদা করে এসে সাক্কু এখন নির্বাচন করছে, তাই ১৪
ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত দল অপেক্ষা
করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আওয়ামী লীগ
সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ২৯ নবেম্বর সভানেত্রীর
ধানমণ্ডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় কেন্দ্রীয়, জেলা
নেতৃবৃন্দ এবং কুমিল্লার আ’লীগ দলীয় ৯ সাংসদ উপস্থিত থেকে মেয়র
পদে আফজল খানকে মেয়র পদে সমর্থন জানানো হয়। ওই সভা শেষ না হতেই
সেখান থেকে বেড়িয়ে আসেন সাবেক ছাত্র নেতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী
নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম ও আনিসুর রহমান মিঠু। ওই দু’ জনের
বিষয়ে এখনও কোন ফয়সালা না হওয়ায় আফজল খান ছাড়াও দলের ওই
দু’বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ে
দৃঢ়তার সঙ্গে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আফজল খানের
ঘনিষ্ঠজনরা ওই দু’বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকলেও তাদের
জন্য আফজল খানের ফলাফলে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না মনে
করছেন।
প্রার্থিতা
বিষয়ে নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম জানান, আমি মনোনয়নপত্র
প্রত্যাহার করব না, আমি এখন আর দলের কোন পদে নেই, তাই
বহিষকারের ভয় করি না, ভোটের মাঠে আছি এবং থাকব। দলের অপর
বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান মিঠু জানান, মনোনয়নপত্র
প্রত্যাহারের কোন কারণ নেই, নির্বাচনী শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মাঠে
থাকব। তবে দলের দু’ বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে এখনও আশাবাদী
আফজল খান। তিনি জানান, আমার বিশ্বাস ওরা সময় মতো মনোনয়নপত্র
প্রত্যাহার করে নেবে এবং আমার জন্য মাঠে কাজ করবে। একই আশাবাদ
ব্যক্ত করে কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা আ’লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক
সফিকুল ইসলাম শিকদার জানান, নেত্রীর নির্দেশ রক্ষা করেই যাতে
ওরা দু’জন ১৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয় সেই
প্রক্রিয়া চলছে এবং এতে ওরা (দু’মেয়র প্রার্থী তানিম-মিঠু) সাড়া
দেবে বলেও তিনি জানান। দলের বিদ্রোহী দু’প্রার্থীর সঙ্গে শেষ
সমঝোতার কোন উদ্যোগ রয়েছে কিনা এমনই প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয়
কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ ওমর ফারুক জানান, যেখানে আফজল
খানের বিষয়ে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে,
সেক্ষেত্রে আর সমঝোতার কিছুই নেই, দলের স্বার্থে নেত্রীর প্রতি
সমমান দেখিয়ে ওরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে মাঠে নামার আশাবাদ
তিনিই ব্যক্ত করেন।
মেয়র
প্রার্থীদের টার্গেট সদর দক্ষিণের ৪৭ হাজার ভোট: কুসিক
নির্বাচনে হেভিওয়েট দুই প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম
আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত এ্যাডভোকেট আফজল খান এবং কুমিল্লা
(দক্ষিণ) জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র
মনিরুল হক সাক্কুর এখন প্রধান টার্গেট সদ্য বিলুপ্ত সদর দক্ষিণ
পৌর এলাকার ৪৭ হাজার ৩০১ ভোট। কারণ ৯ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ওই
এলাকায় হেভিওয়েট কোন প্রার্থী নেই। তাই সদর দক্ষিণের ভোটের
হিসাব নিকাশ নিয়েই মেয়র প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত।
|