|
চট্টগ্রামে
ট্রেন-জিপ সংঘর্ষে নিহত প্রগতি ইন্ডস্ট্রিজের কর্মকর্তার দাফন
সম্পন্ন
মুজিবুর
রহমান দুলাল, লাকসাম (বৃহষ্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১, ১৪
আশ্বিন ১৪১৮, ৩০ শাওয়াল ১৪৩২): - চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড
উপজেলার বাড়বকুন্ড রেল ক্রসিংয়ে বুধবার ট্রেন-জিপের সংঘর্ষে
নিহত প্রগতি ইন্ডস্ট্রিজের হিসাব বিভাগের শাখা কর্মকর্তা
তোফায়েল আহমদ ওরফে পলাশের দাফন গতকাল বৃহসপতিবার সম্পন্ন হয়েছে।
ওইদিন সকাল ১০টায় লাকসাম এ.মালেক ইন্সটিটিউট (রেলওয়ে হাই স্কুল)
মাঠে জানাজার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা অনুষ্ঠান শেষে
বিদ্যালয়ের পাশে কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।
তোফায়েল আহমদ ওরফে পলাশের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরের
পশ্চিমগাঁও গ্রামে। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসর প্রাপ্ত
পরিচালক (গার্ড) মোজামেমল হকের ছেলে। ওইদিন রাত ১.৩০ মিনিটের
সময় নিহত পলাশের লাশ তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসা হলে শুরু হয় শোকের
মাতম। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও পাড়া-প্রতিবেশীদের
আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে বাতাস। সে সময় এক হৃদয় বিদারক অবস্থার
সৃষ্টি হয়। বাবা-মার একমাত্র সন্তান পলাশকে হারিয়ে তাঁরা অনেকটা
বাকরুদ্ধ।
আল্লাহ আমার ছেলেরে ক্যান নিলা। কী দোষ করছিলাম। আমি অহন কারে
লইয়া বাচুম। তোমরা আমার ছেলেরে আইনা দাও। এভাবে বুক চাপড়াইয়া
আহাজারি করছিলেন পলাশের মা। তিনি বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। ওই
সময় পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা তাঁকে শান্তনা দেওয়ার
চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরাও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
বাবার চাকরির সুবাদে তোফায়েল আহমদ ওরফে পলাশ জন্মের পর থেকে
বেড়ে ওঠেন লাকসাম রেলওয়ে জংশন কলোনিতে। শৈশবে লাকসাম রেলওয়ে
সরকারি বিদ্যালয় ও এ মালেক ইন্সটিটিউটে (রেলওয়ে হাই স্কুল) পড়া
লেখা করেন । সে সুবাদে তাঁকে সেখানে দাফন করা হয়েছে বলে তাঁর
বাবা জানান। প্রসঙ্গত; গত বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড
উপজেলার বাড়বকুন্ড শুকলালহাট এলাকায় অবস্থিত প্রগতি
ইন্ডস্ট্রিজের একটি জিপ রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের
ধাক্কায় চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যায়। এ সময় ওই ইন্ডস্ট্রিজের পাঁচজন
কর্মকর্তা-কর্মচারি নিহত হন।
|